মোদী সরকারের রেল সম্পত্তি মোনেটাইজেশন (Indian Railway Asset Monetization) পরিকল্পনা নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল মোনেটাইজেশন পাইপলাইন 2.0 (NMP)-এর অধীনে রেল মন্ত্রক ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নিয়েছে। এই পরিকল্পনা পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। সরকার বলছে, এটি বিক্রি নয়, বরং লিজিং বা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ। কিন্তু বিরোধীরা এটাকে জাতীয় সম্পত্তি বিক্রির সঙ্গে তুলনা করছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর প্রভাব কী হবে? আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রেলের সম্পত্তি বিক্রির পরিকল্পনা সরকারের!
মোদী সরকারের রেল সম্পত্তি মোনেটাইজেশন লক্ষ্যমাত্রা ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা। এতে রেলের ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, স্টেশন, ল্যান্ড এবং পিএসইউ-এর অংশীদারিত্ব অন্তর্ভুক্ত। সরকারের দাবি, এই অর্থ নতুন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার হবে। গত বছরগুলোতে রেলের মোনেটাইজেশন থেকে ২৮,৭১৭ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে।
কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ১.৫২ লক্ষ কোটি থেকে কম পড়েছে। নতুন পরিকল্পনায় প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। এতে রেলের দক্ষতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটে রেলের জন্য ২.৫২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
বিরোধীদের সমালোচনা
রেল অ্যাসেট মোনেটাইজেশনকে বিরোধীরা ‘সম্পত্তি বিক্রি’ বলে অভিহিত করছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এটি জাতীয় সম্পদকে প্রাইভেট হাতে তুলে দেওয়া। টিএমসি-র মতো দলগুলো অভিযোগ করছে, এতে চাকরির সুরক্ষা বিপন্ন হবে। নিয়মকানুনের জটিলতা এবং রেলে স্বাধীন নিয়ন্ত্রকের অভাবে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট কম হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ১.২৩ লক্ষ কোটি টাকা কম পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবু সরকার বলছে, এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জরুরি।
পশ্চিমবঙ্গে রেলের সম্পত্তি মোনেটাইজেশনের প্রভাব
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোদী সরকার পশ্চিমবঙ্গের রেল উন্নয়নে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এতে কলকাতা মেট্রো, হাওড়া-শিয়ালদহ রুটের আধুনিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু মোনেটাইজেশন পরিকল্পনায় রেলের জমি বা স্টেশন লিজ দেওয়া হলে ভাড়া বাড়তে পারে। স্থানীয় কর্মীরা চিন্তিত। তবু এটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নজরদারি থাকলে এটি উপকারী হবে।
