পড়েই থাকছে বিধায়ক তহবিলের টাকা, সবচেয়ে কম খরচ নলহাটিতে, বেশি কোথায়?

সেই ছোট থেকেই কমবেশি সকলেই শুনে আসছে ভোট আসে আর ভোট যায়। কিন্তু জনগণের উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল টতা পূরণ হয় না। এরই বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দ টাকা খরচের হিসাব। পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক তহবিল খরচের ব্যর্থতা একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, অধিকাংশ বিধায়ক তাদের বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (MLA Funds) তহবিলের সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে স্থানীয় উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিধায়ক তহবিলের ব্যবহার হার গড়ে মাত্র ৫০ শতাংশ। কিছু বিধায়কের ক্ষেত্রে এটি ১০ শতাংশেরও নীচে।

পড়েই থাকছে বিধায়ক তহবিলের টাকা

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিইইউপি প্রকল্পে প্রতি বিধায়ককে বছরে ৭০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। এই তহবিল দিয়ে রাস্তা, জল সরবরাহ, স্কুল, হাসপাতালের মতো স্থানীয় উন্নয়ন কাজ করা যায়। দুটি কিস্তিতে টাকা ছাড়া হয়। প্রথম কিস্তির ৫০ শতাংশ খরচের পর দ্বিতীয় কিস্তি মেলে। উদ্দেশ্য হলো বিধানসভা এলাকার মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ। কিন্তু বিধায়ক তহবিল ব্যবহারের ব্যর্থতায় অনেক প্রকল্প অসমাপ্ত রয়েছে।

বাস্তবে কতটা খরচ হচ্ছে মানুষের জন্য?

সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৯৪ জন বিধায়কের মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি তহবিলের অর্ধেকও খরচ করেননি। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় হার আরও কম। উদাহরণস্বরূপ, শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ তহবিল ব্যবহারে বাধার অভিযোগ তুলে অনশন করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রশাসনিক অসহযোগিতায় কাজ থমকে গেছে। অন্যদিকে, কলকাতার কিছু বিধায়ক ৬০ শতাংশের বেশি খরচ করেছেন। বিধায়ক তহবিলের ব্যবহার হার বাড়াতে কলকাতা পুরসভা একটি অ্যাপ চালু করেছে, যা প্রকল্প নিরীক্ষণ করে।

জানা যাচ্ছে, বিধায়ক তহবিলের টাকা খরচ না হওয়ার প্রধান কারণ প্রশাসনিক বিলম্ব। প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার, ঠিকাদার নির্বাচন সবকিছুতেই সময় লাগে। এছাড়া রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও বাধা সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, বিরোধী দলের বিধায়করা অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার তাদের তহবিল ছাড়তে দেরি করে। এছাড়া, কিছু বিধায়কের পরিকল্পনার অভাবও দায়ী।