কবরস্থানে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র! পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি, রক্তাক্ত খোদ সিউড়ি থানার আইসি

পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট বৃষ্টি, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর সহ আরও একাধিক উত্তেজনা মূলক ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহেরা নিলো সিউড়ি (Suri)। যে ঘটনায় খোদ সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায় আহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তবে ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিউড়ি থানার আইসি।

এমন রণক্ষেত্রের ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। ঘটনাটি ঘটে সিউড়ি থানার অন্তর্গত কাখুড়িয়া গ্রামে। ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে তাতে, কবরস্থানে পাঁচিল ও নির্মাণ কাজ চালানোর সময় হঠাৎ পুরনো কবরের হাড়গোড় বেরিয়ে আসে। এমন ঘটনা দেখে গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ধর্মীয় ভাবে আহত করা হয়েছে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যে ঠিকাদার সংস্থা ওই নির্মাণ কাজ চালাচ্ছিল তাদের এক কর্মীকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। ঘটনার খবর যায় সিউড়ি থানায়।

ঘটনার খবর পেয়ে সিউড়ি থানার পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করে এবং আটকে থাকা কর্মীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আবেদন নিবেদন জানায়। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, ওই ঠিকাদার সংস্থা অথবা ঠিকাদার সংস্থার কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা যেমনভাবে অভিযোগ করবে ঠিক সেই ভাবে পুলিশ মামলা রুজু করবে। কিন্তু গ্রামবাসীরা কোনভাবেই মেনে নিতে চাননি। দুটি গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয়ে ওই ঠিকাদার সংস্থার কর্মীকে ছাড়তে নারাজ ছিলেন।

এমন অবস্থায় সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকে থাকা কর্মীকে উদ্ধার করেন। এরপর কিছু মানুষ ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলেও আচমকা পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইট বৃষ্টি।

গ্রামবাসীদের এলোপাথাটি ইট বৃষ্টিতে রক্তাক্ত হন সিউড়ি থানার আইসি। তার মাথা ফেটে যায়। পাশাপাশি জখম হন আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মী। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে সিউড়ি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে আবার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছয় গ্রামে।

এরপর এলাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের আওতায় আসে। পুলিশের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা আইন নিজের হাতে নিয়েছিল, পুলিশের উপর হামলা করেছিল, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।