‘চাকরি চায় বাংলা, নিয়োগ চাই বিজেপি’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার শান্তিনিকেতনে এক বিশাল রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বিজেপি। আর সেই মঞ্চ থেকেই বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। কখনও অনুব্রত মণ্ডলকে ‘পাপ’ ধুয়ে ফেলার পরামর্শ, আবার কখনও কাজল শেখ বা হুমায়ুন কবিরকে হুঁশিয়ারি— সৌমিত্রর একের পর এক মন্তব্যে এদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শান্তিনিকেতনের রাজনৈতিক পরিবেশ।
বিষ্ণুপুরের সাংসদ এদিন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও সভাধিপতি কাজল শেখকে সরাসরি নিশানা করেন। সৌমিত্র অভিযোগ করেন, বীরভূমে উন্নয়নের নামে আসলে শাসকদলের নেতারা নিজেদের পকেট ভরাতে ব্যস্ত। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁদের কোনও মাথাব্যথা নেই। অনুব্রত মণ্ডলের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “অনুব্রতবাবু, জীবনে অনেক পাপ করেছেন। এবার অন্তত সনাতনীদের হয়ে কাজ করুন। শেষটা ভাল হলে সব ভাল হয়। আপনি তলায় তলায় এবার বিজেপির হয়ে ভোট করান।”
এদিন শুধু আক্রমণ নয়, হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক সংহত করার ডাকও দেন সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, “রাজ্যের সমস্ত সনাতনী যদি একজোট হয়ে ভোট দেন, তবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো সম্ভব।” তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে সমাজকে বিভক্ত করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকেও বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। চন্দ্রনাথবাবুর পুরনো একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী নিজেই জানেন মানুষ তাঁকে ভোট দেয় না। নিজের ওয়ার্ডেই হারেন।
মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকেও এদিন রেয়াত করেননি সৌমিত্র। বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাবরি নামে আমার আপত্তি আছে, মসজিদ করার ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য একদিকে যেমন মেরুকরণের রাজনীতিকে উসকে দিচ্ছে, অন্যদিকে দলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
আরও পড়ুনঃ ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’! মাধ্যমিকের শেষ দিনে পরীক্ষার্থীদের বিশেষ চমক তৃণমূলের
রাজ্যের জ্বলন্ত ইস্যু নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সৌমিত্র খাঁ বলেন, “তৃণমূল জমানায় মেধার দাম নেই, আছে শুধু কেলেঙ্কারি। বাংলার যুবসমাজ আজ দিশেহারা।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। সব মিলিয়ে, শান্তিনিকেতনের এই কর্মসূচি থেকে সৌমিত্র খাঁ যেভাবে জেলা ও রাজ্যের হেভিওয়েট নেতাদের আক্রমণ করলেন, তাতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের রাজনীতির পারদ যে কয়েক গুণ চড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
