স্বামী বিবেকানন্দের আবির্ভাব তিথির র্যালি যাচ্ছে গ্রামের রাস্তায়, আর সেই র্যালি বাড়ির বাইরে এলেন গৃহবধূরা। গৃহবধূরা বাড়ির বাইরে এসে নতমস্তকে প্রণাম করছেন স্বামী বিবেকানন্দের ছবির উদ্দেশ্যে। এমন নজির বিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকলো বীরভূম। শনিবার এমন নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায় বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের অন্তর্গত পন্ডিতপুর গ্রামে।
বিশ্ব বিজয়ী বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪ তম শুভ আবির্ভাব তিথি মহোৎসব উদযাপন হল দুবরাজপুরে। আজ শনিবার দুবরাজপুরের পন্ডিতপুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমে পক্ষ থেকে প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছরও যথাযথ মর্যাদা সহকারে পালন করা হয় বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের আবির্ভাব তিথি। এদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভোরে মঙ্গলারাত্রিক, বৈদিক স্তোত্র পাঠ, ও সানাই বাদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। হয় বিশেষ পূজাপাঠ, গীতাপাঠ চণ্ডীপাঠ ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান। কচিকাচা ও ভক্তদের নিয়ে হয় বর্ণাঢ্য প্রভাত ফেরী ও নগর পরিক্রমা। যা পন্ডিতপুর গ্রাম পরিক্রমা করে। এরপর হয় বিশেষ হোমানুষ্ঠান, ধর্মসভা। যেখানে বিষয় ছিল স্বামী বিবেকানন্দ ও বর্তমান সমাজ।
আরও পড়ুনঃ রামের নগরীতে নন-ভেজ ব্যান! আমিষ ও মদ নিয়ে নির্দেশিকা জারি অযোধ্যা প্রশাসনের
এসবের পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো জীব সেবার আয়োজন হয়। দুপুরে হয় প্রসাদ বিতরণ ও কম্বল বিতরণ। সন্ধ্যারাত্রিক এবং সবশেষে ভক্তিগীতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানে সন্ন্যাসী ও ভক্তরা অংশগ্রহণ করেন।
দুবরাজপুরের পন্ডিতপুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমের শীর্ষসেবক স্বামী সত্যশিবানন্দ মহারাজ বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ হচ্ছেন আমাদের আইকন। শুধু ভারতবর্ষ নয়, সারা পৃথিবীর যুব সমাজের আদর্শ। এই মুহূর্তে পৃথিবীর যা সংকট তাতে আমরা মনে করি স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শ ছাড়া আমাদের বেরিয়ে আসার কোন পথ নেই। সারা পৃথিবীর মানুষ যদি বিবেকানন্দ কে অনুসরণ করে তার আদর্শ, তার বাণী কে নিয়ে চলার চেষ্টা করে তাহলে আমরা আগামীতে নিয়ে শান্তির পৃথিবী আমরা দেখতে পাবো।
