দিন দুয়েক আগেই বহরমপুরে তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেস ভোট প্রচারের সময়ে মুখোমুখি হয় একটি রাস্তায়। তারপর তাদের মধ্যে বেঁধে যায় তুলকালাম কান্ড। যে ঘটনায় জাতীয় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা একে অপরকে রীতিমতো হুমকি দেন। এছাড়াও গত কয়েকদিন আগেই দুবরাজপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে রীতিমতো বিক্ষোভ ও হেনস্থা করা হয় দুবরাজপুরের লোবা এলাকায়।
যখন এই ধরনের একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে, ঠিক সেই সময়ই রাতের অন্ধকারে আচমকা ভোট প্রচারে মুখোমুখি তৃণমূল বিজেপি। তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শেখ শুকুর তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচার করছিলেন, এদিকে দুবরাজপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা ঠিক সেই সময় ওই এলাকাতেই নিজের সমর্থনে ভোট প্রচারে যান। মুখোমুখি হন দুজনে, আর তারপরেই ঘটে যায় অবাক করা ঘটনা।
যখন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক হিংসা দিন দিন বেড়ে চলেছে, যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হাতের কাছে পেলেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই সময় অবশ্য দুবরাজপুরের বালিজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের কামালপুরে সৌহার্দের রাজনীতি লক্ষ্য করা গেল।
দুবরাজপুর ব্লকের বালিজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের কামালপুর সংসদের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শেখ শুকুর রবিবার রাতে যখন দুবরাজপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচার করছিলেন তখন ওই এলাকারতেই বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা পৌঁছলে তাকে গোলাপ দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা এমন সংবর্ধনা পেয়ে শেখ শুকুরকেও জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানান। শেখ শুকুর জানান, সৌজন্যের রাজনীতি, সমাজে শান্তির রাজনীতির বার্তা দেওয়াই হলো আমার এমন পদক্ষেপের লক্ষ্য।
সৌজন্যমূলক এমন রাজনীতি এখন যখন হারিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই সময়ই দুবরাজপুর নতুন করে দৃষ্টান্ত তৈরি করল তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। অনুপ কুমার সাহা জানান, এটাই সৌজন্য। বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া এমন সৌজন্য কেউ ফিরিয়ে আনতে চাই বিজেপি।
