অল ইন্ডিয়া ধর্মঘট! কেন্দ্রীয় শ্রমনীতির বিরোধিতায় পথে ৩০ কোটি শ্রমিকেরা

ভারত বন্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘটে (Nationwide Strike) যোগ দেবেন প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক। কেন্দ্রীয় সরকারের চারটি নতুন শ্রম আইনের বিরোধিতায় এই ধর্মঘট ডেকেছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে এর প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন দাবি করে এই আন্দোলন জোরদার হয়েছে।

ধর্মঘটের মূল কারণসমূহ

কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ধর্মঘটের পিছনে রয়েছে মোদী সরকারের শ্রম সংস্কার। চারটি শ্রম কোডকে বাতিল করার দাবি উঠেছে, যা শ্রমিকদের অধিকার কমিয়ে নিয়োগকর্তাদের সুবিধা বাড়ায়। এছাড়া বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল, ড্রাফট সিড বিল এবং ভিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার মিশনের মতো নীতিগুলিকে প্রত্যাহার করতে হবে। কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চাও সমর্থন জানিয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ের ধর্মঘটে ২৫ কোটি শ্রমিক যোগ দিয়েছিলেন, এবার সংখ্যা বাড়বে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, ব্যাঙ্ক কর্মী, খনি শ্রমিক এবং পরিবহণকর্মীরা সকলে অংশ নেবেন।

পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গে ভারত বন্ধের প্রভাব স্পষ্ট হবে কলকাতায়। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, সরকারি অফিস এবং পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে। রেল এবং রাস্তা অবরোধের সম্ভাবনা রয়েছে, যেমনটি আগের ধর্মঘটে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি জেলা স্তরে প্রস্তুতি নিয়েছে। স্কুল-কলেজ খোলা থাকলেও শিক্ষক-ছাত্রদের অংশগ্রহণে কিছু বিঘ্ন ঘটতে পারে। অডিশা এবং অসমের মতো রাজ্যে সম্পূর্ণ শাটডাউন হবে, কিন্তু বাংলায় আংশিক প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষকে আগাম সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দাবি এবং ভবিষ্যতের ছবি

ধর্মঘটকারীরা মনরেগা আইন পুনর্বহাল, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি তুলেছে। এই আন্দোলন শুধু শ্রমিকদের নয়, কৃষক এবং যুব সমাজেরও। সরকার যদি না শোনে, তাহলে আগামীতে আরও বড় প্রতিবাদ হতে পারে।