প্লাস্টিক অতীত! গঙ্গাসাগরে পরিবেশ বাঁচাবে আদিবাসীদের তৈরী শালপাতার থালা

গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এ (Gangasagar Mela 2026) এবার বড় পরিবর্তন! প্লাস্টিকের থালা-বাটির বদলে ব্যবহার হবে বাঁকুড়ার শালপাতার থালা ও বাটি। রাজ্যের পরিবেশ দফতর এই উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে মেলায় লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর জন্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প তৈরি হয়। প্রায় ২ লক্ষ থালা ও ৪ লক্ষ বাটি তৈরি হয়েছে বাঁকুড়ার রাইপুর ও সারেঙ্গা ব্লকের আদিবাসী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে। এই বরাতের মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। মঙ্গলবারই সব পণ্য পাঠানো হয়েছে গঙ্গাসাগর-বকখালি উন্নয়ন পর্ষদের কাছে।

এই শালপাতার থালা-বাটি শুধু সুন্দর নয়, একদম প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব। জঙ্গলের শাল গাছের পাতা শুকিয়ে, সেলাই করে তৈরি হয় এগুলো। প্লাস্টিকের মতো শত বছর ধরে না থেকে সহজেই মাটিতে মিশে যায়, কোনো দূষণ ছড়ায় না। প্রতি বছর গঙ্গাসাগর মেলায় কোটিরও বেশি পুণ্যার্থী আসেন। ২০২৫-এ রেকর্ড ১.১ কোটিরও বেশি লোকের ভিড় হয়েছে। এত বড় মেলায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। শালপাতা এখানে আদর্শ বিকল্প।

এই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন বাঁকুড়ার আদিবাসী পরিবারের মানুষ। রাইপুরের ডিআরএমএস ল্যাম্পস ও সারেঙ্গার সিএনজিএস ল্যাম্পসের অধীনে দু’টি ইউনিট চালু হয়েছে। পরিবেশ দফতরের আর্থিক সাহায্য ও আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের সহযোগিতায় এগুলো চলছে। রাইপুর ব্লকে প্রায় ১৫০টি আদিবাসী পরিবার ও সারেঙ্গায় ২০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রায় ৮০টি পরিবার এতে যুক্ত।

Tribal Womens working with Sal Leafs

আরও পড়ুনঃ বড়দিনের ভেজাল খেল বাঙালি! নামী বেকারিতে হানা, গুণমান পরীক্ষায় ফেল ফ্রুট কেক

আদিবাসী মহিলাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে

জঙ্গল থেকে শালপাতা সংগ্রহ করে শুকিয়ে, ল্যাম্পসে বিক্রি করছেন অনেকে। আগে পাতা বিক্রিতে সমস্যা হতো, এখন নিয়মিত আয় হচ্ছে। অনেক মহিলা বলছেন, “বাইরে কাজ খুঁজতে হয় না। সংসার চালানো সহজ হয়েছে, আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।” গঙ্গাসাগরের মতো বড় মেলায় বরাত পাওয়ায় সুযোগ আরও বেড়েছে।

এই প্রাকৃতিক থালা-বাটি দেখতে কত সুন্দর! একদম পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই। এর মাধ্যমে যেমন মেলাকে আরও পরিবেশবান্ধব করার প্রচেষ্টা চলছে। তেমনি গঙ্গাসাগর মেলায় এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বরাত আসতে পারে। এতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা উন্নত হবে, জঙ্গল রক্ষা পাবে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।