গান শোনালেই চা ফ্রি, চায়ের জন্য এক টাকাও খরচ করতে হবে না। এমন দোকান আবার হয় নাকি! এমন দোকানের কথা বললে অনেকের মধ্যেই এমনই প্রশ্ন জাগতে পারে। তবে সেই সকল প্রশ্নের উত্তরে বলতেই হয়, আর কোথাও এমন দোকান থাক বা না থাক, এমন একটি দোকান রয়েছে বীরভূমে। এবার প্রশ্ন জাগতে পারে, বীরভূমে আবার কোথায় রয়েছে এমন দোকান?
গান শোনালেই চা ফ্রী এমন দোকানটি রয়েছে বীরভূমের ইলামবাজারের জয়দেবে। জয়দেব কেন্দুলীর বিখ্যাত যে রাধা বিনোদ মন্দির রয়েছে তার ঠিক পিছনেই রয়েছে এমন একটি সুস্বাদু চায়ের দোকান। যেখানে আর পাঁচটা দোকানের মতই ৫ বা ১০ টাকার বিনিময়ে চাপ পাওয়া যায়। তবে এই দোকানে বসে কেউ যদি দু কলি গান শুনিয়ে দেন তাহলে তার থেকে এক টাকাও নেন না ওই চায়ের দোকানের মালিক অর্থাৎ দোকানদার শুভদীপ রজক। তিনি এমনটা কেন করে থাকেন জানিয়েছেন নিজেই।
এক্ষেত্রে যারা গান গাইতে পারছেন তারা বিনামূল্যে চা পান করে দোকান থেকে যাচ্ছেন। তবে যারা গান গাইতে পারছেন না বা পারেন না তারা এই দোকানে এসে লাইভ পারফরমেন্স দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি চায়ের দোকান এখন বীরভূমের গানপ্রেমীদের হটস্পটে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিএ পাশ তৃণমূল ঘরানার ছেলের কিছু হয়নি! বিধায়ককে কাছে পেয়ে কাজের আকুতি মায়ের
জয়দেবের ওই চায়ের দোকানে বছরের যেকোনো সময় গেলেই দেখা যাবে একটি কাঠের তক্তার উপর রাখা রয়েছে টেনোর, গিটার ইত্যাদি। আর ওই দোকানের দেয়ালে লাগানো লোক শিল্পী তারক দাস বাউল সহ একাধিক সংগীত শিল্পীর ছবি। সেখানেই লেখা রয়েছে গান গাইলেই চা ফ্রি।
দোকানের মালিক বীরভূমের ইলামবাজারের জয় দেবেরই বাসিন্দা শুভদীপ। সে পড়াশোনা চলাকালীন বাবার অসুস্থতার কারণে পড়াশোনা ছেড়ে বোলপুরের একটি সোনার দোকানে সহকারী কর্মী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এরপর আস্তে আস্তে কর্মদক্ষতার সঙ্গে কারিগর হলেও গানের প্রতি তার ভালোবাসা তাকে বারবার শিল্প সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য টানতো। তবে পরিবারের আর্থিক সমস্যার পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশেও দাঁড়ানো তার কর্তব্য। আর এইসবের পরিপ্রেক্ষিতেই সে শেষমেশ এমন সমাধান খুঁজে পায় এবং তারপর বাবার চায়ের দোকানটি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আর এরপরেই এমন অভিনব অফার দিতে শুরু করে সে। এখন দিনে বেশ কতক কাপ চা ফ্রিতে দিতে হলেও তার দোকানের জনপ্রিয়তা বেশ বেড়েছে, বেড়েছে বেচাকেনাও।
