Singur: সিঙ্গুরে জুয়েলারি হাব নির্মাণ কী স্বপ্নই থেকে যাবে? নাকি বিকল্প ভাবনা সামনে আসবে?

আবারও একবার শিরোনামে উঠে এলো সিঙ্গুরের নাম। প্রশাসনকে রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে সামান্য জুয়েলারি হাব তৈরি করতে। প্রায় দুই বছর অতিক্রম হয়েছে সবকিছু আলোচনায় পর। কিন্তু আবারও সেই একই জমি বিতর্ক। তাই সেখানে জুয়েলারি হাব তৈরি এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। যে জমিটি জুয়েলারি হাব নির্মাণের জন্য পছন্দ করা হয়েছিল, তাতেও কাজ করতে দেওয়া হয়নি প্রশাসনকে। তারপর চোখের নিমেষে কেটে গিয়েছে দুই বছর। এই মুহূর্তে অনুমোদনের জন্য বিকল্প জমি খুঁজে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের কর্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও সমস্যা হবে না। জুয়েলারি হাব তৈরি হবেই। তবে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরা।

প্রশাসনিক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জুয়েলারি হাব তৈরি হলে কয়েক হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারে। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বাড়াতে নতুন আশার আলো দেখাতে পারে এই উদ্যোগটি। প্রথম আলোচনার শেষে জুয়েলারি হাব নিয়ে এমন সব কথাবার্তাই প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্ত তারপরেও জুয়েলারি হাব নির্মাণের কাজে হাত পড়েনি। ২০২৩ সালের গোড়ার এই সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসা হয়েছিল। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আশার আলো দেখেনি এই হাব।

আরও পড়ুন: Kolkata Metro: ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর প্রত্যেকটি স্টেশনে আয়না বসাচ্ছে রেল! কেন এমনটা জানেন

সিঙ্গুর ইমিটেশন জুয়েলারি ক্লাস্টার গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল সিঙ্গুরের নসিবপুর পঞ্চায়েতের অধীনে সরকারের খাস জমিতে ০.২৩ একর জমিতে। সিদ্ধান্ত হয়েছিল মোট ৩৮টি ইউনিট তৈরি হবে সেখানে। যার সাহায্যে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি মানুষের নানা ধরণের কাজের সুযোগ মিলবে বলে জানা গিয়েছে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে। সেই কথা মতো গত দুই বছর আগে সরকারি কর্তাদের একাংশ জমি মাপতে এলাকায় গিয়েছিল। কিন্তু তারা বাঁধার সম্মুখীন হন।

গ্রামবাসীদের আপত্তি থাকায় কাজে হাত লাগাতে পারেননি তারা। প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা নিজেরা সেখানে গিয়ে দাঁড়ালেও কোনও সুরাহা হয়নি। ওই নির্দিষ্ট জমি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে গ্রামবাসীদের তরফে দাবি উঠেছিলো। তাই কাজে হাত লাগানো একবারে নিষেধ। প্রশাসনের সুত্র মারফত জানা গিয়েছে, সেই জমির পরিবর্তে বিকল্প জমি হিসেবে সিঙ্গুর থানা এলাকারই বোড়াই পহলামপুর এলাকায় তা গড়ে উঠবে। তবে জমির পরিমাণ কমে এখন দাঁড়িয়েছে ০.১৪ একরে।

সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি টুম্পা ঘোষের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই বিষয় সম্পর্কে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। যা বলার মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলবেন।’
অন্যদিকে, বেচারামকে যোগাযোগ করা হলে তার তরফে জানা গিয়েছে, ‘ওখানে একটা সমস্যা চলছে। দ্রুত তা মিটিয়ে জুয়েলারি হাবের কাজ শুরু হবে।’ এখন দেখার বিষয় সব বাঁধা মিটিয়ে কবে এই জুয়েলারি হাব তৈরির কাজে শুভারম্ভ হয় প্রশাসনের তরফে।