গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আজ ১৪ জানুয়ারি, মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti) এই পবিত্র দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে লক্ষ লক্ষ ভক্ত জমায়েত হয়েছেন। শীতের কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে তারা গঙ্গাসাগর স্নানে মগ্ন। এই Gangasagar Mela প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে হয়, যা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় মেলা। এখানে গঙ্গা ও সাগরের সঙ্গমস্থলে পুণ্যস্নান করে মোক্ষলাভের বিশ্বাস।
মকর সংক্রান্তির ধর্মীয় মাহাত্ম্য
মকর সংক্রান্তি হল সূর্যের উত্তরায়ণের শুরু। পুরাণ অনুসারে, রাজা সগরের ৬০ হাজার পুত্র কপিল মুনির আশ্রমে অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া খুঁজতে গিয়ে মুনির ধ্যান ভঙ্গ করে। ক্রুদ্ধ কপিল মুনি তাদের ভস্ম করে দেন। পরে ভগীরথ গঙ্গাকে পৃথিবীতে নামিয়ে আনেন এবং গঙ্গাসাগরে তর্পণ করে পূর্বপুরুষদের মুক্তি দেন। এই কারণে গঙ্গাসাগর স্নান মোক্ষদায়ক বলে মানা হয়। আজকের গঙ্গাসাগর মেলায় এই পুরাণকথা জীবন্ত হয়ে ওঠে। ভক্তরা তিল দান করে পিতৃদের শ্রাদ্ধ করেন।
কপিল মুনি মন্দিরের গুরুত্ব
গঙ্গাসাগরের কেন্দ্রবিন্দু কপিল মুনি মন্দির। এখানে মুনির আশ্রমে ভক্তরা প্রার্থনা করেন। মন্দির চত্বরে দীর্ঘ লাইন। এই মন্দির দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অবস্থিত, যা গঙ্গাসাগর মেলার প্রধান আকর্ষণ। পুরাণে বলা, এখানে স্নান করে পাপমুক্তি পাওয়া যায়। ২০২৬-এর মেলায় ৪৫ লক্ষের বেশি ভক্ত এসেছেন বলে অনুমান।
নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি
পশ্চিমবঙ্গ সরকার গঙ্গাসাগর মেলার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ১২০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি এবং জলপথে নৌসেনার পাহারা। ৬৯৮টি ড্রপ গেট এবং ৫৪ কিলোমিটার ব্যারিকেড দিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ। চিকিৎসা সুবিধায় এয়ারলিফটের ব্যবস্থা। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মেলা পরিষ্কার থাকে। মূল স্নানের সময় বুধবার দুপুর ১:৩০-এ মহেন্দ্রক্ষণ।
