পাকিস্তান রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জর্দারির ভারত যুদ্ধ প্রস্তুতি দাবি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। সোমবার পাকিস্তানের সংসদে ভাষণে তিনি বলেছেন, ভারতের নেতারা আরেক যুদ্ধের তোড়জোড় করছে। এই দাবি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে (India-Pakistan Conflict) আরও জটিল করে তুলেছে। জর্দারি শান্তির পক্ষে সওয়াল করে ভারতকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
জর্দারির বক্তব্যের সারাংশ
পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জর্দারি বলেন, “ভারতের নেতারা বলছেন, তারা আরেক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।” নিজেকে শান্তির দ্যূত হিসাবে দেখতে চেয়ে জানান , আমি চিরকাল আঞ্চলিক শান্তির পক্ষেই সবল করে এসেছি । এরপর তিনি ও জানান যে তিনি এটাকে অনুমোদন করেন না। ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যুদ্ধের মাঠ ছেড়ে আলোচনায় আসুন। এটাই আঞ্চলিক নিরাপত্তার একমাত্র পথ।” তিনি ভারতের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতকে ‘জল সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। এতে পাকিস্তানের জলপ্রবাহ রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি। জর্দারি পাকিস্তানের ভূমিতে কোনও বহিরাগত শক্তির অনুপ্রবেশ রুখতে প্রতিজ্ঞা করেছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনা
২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ভারত এর জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দায়ী করে। প্রতিক্রিয়ায় ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে। এই চুক্তি ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় হয়, যা ছয়টি নদীর জল ভাগ করে। পশ্চিমের তিন নদী (সিন্ধু, ঝিলম, চেনাব) পাকিস্তানকে বরাদ্দ, কিন্তু ভারত সেগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালাতে পারে। স্থগিতের পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করে। মে মাসে যুদ্ধবিরতি হয়, কিন্তু চুক্তি এখনও স্থগিত।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
নয়াদিল্লি জর্দারির ভারত যুদ্ধ প্রস্তুতি দাবিকে ‘প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারত বলছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এই উত্তেজনা আঞ্চলিক শান্তিকে হুমকি দিচ্ছে। পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ চাষাবাদ এই জলে নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতি দরকার। জর্দারির দাবি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে, কিন্তু শান্তি আলোচনাই সমাধান।
