পৃথিবীতে স্বার্থহীন ভালোবাসার টান আজও যে বেঁচে আছে, তার এক অনন্য নজির দেখল সিউড়ি। রাজনীতি, ভিড় আর স্লোগানের ঊর্ধ্বে উঠে এল এক নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের গল্প। রূপালি পর্দার জয়-বীরুর কাহিনী যেন বাস্তবে ধরা দিল বীরভূমের লাভপুর থেকে আসা দুই বন্ধুর মধ্যে। যেখানে এক বন্ধুর স্বপ্নপূরণ করতে নিজের শরীরকে সিঁড়ি বানিয়ে দিলেন অন্য বন্ধু।
বীরভূমের লাভপুর ব্লকের বারসিনা গ্রামের ৪০ বছর বয়সী যাদব বাগদী জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম। হাঁটাচলা তাঁর কাছে বিলাসিতা। কিন্তু মনের জোর আর বন্ধু তুষার মন্ডলের কাঁধ—এই দুইয়ের জোরেই তিনি জয় করলেন অসম্ভবকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একবার স্বচক্ষে দেখার তীব্র বাসনা ছিল যাদবের। বন্ধুর সেই ইচ্ছার কথা জানতেন তুষার। তাই যখনই খবর পেলেন মোদী সিউড়িতে আসছেন, আর দ্বিধা করেননি তিনি।
বৃহস্পতিবার লাভপুর থেকে বাসে চড়ে তাঁরা সিউড়ি পৌঁছালেও বিধি বাম! জনসভার ভিড়ের কারণে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরেই বাস দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু শরীর অচল হলেও যাদবের মনের ইচ্ছা তখন তুঙ্গে। বন্ধুর সেই আকুতি দেখে তুষার তপ্ত রোদের মধ্যে তিন কিলোমিটার পথ হাসিমুখে বন্ধুকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে হাঁটা শুরু করেন।
শুধুমাত্র সভায় পৌঁছানোই নয়, জনসভার উত্তাল ভিড়ে যাতে যাদব অন্তত একবার তাঁর প্রিয় নেতাকে দেখতে পান, তার জন্য টানা দেড় ঘণ্টা বন্ধুকে কাঁধে বসিয়ে রাখলেন তুষার। রাজনীতির রঙ ছাপিয়ে সেই মুহূর্তে বড় হয়ে উঠেছিল তুষারের ঘাম আর যাদবের চোখের আনন্দ।
তুষার বলেন, “যাদব আমার কাছে বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু। ওর মনের সরলতা আমায় মুগ্ধ করে। ও মোদীজিকে খুব ভালোবাসে, শুধু চেয়েছিল একবার সামনে থেকে দেখতে। ওর সেই স্বপ্নটা আজ সার্থক করতে পেরে আমার নিজেরই খুব আনন্দ হচ্ছে।”
জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ এই দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। যে যুগে মানুষ নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, সেই যুগে দাঁড়িয়ে বন্ধুত্বের এমন ‘মন ভালো করা’ দৃশ্য প্রমাণ করে দিল—পাশে দাঁড়ানোর নামই প্রকৃত বন্ধুত্ব। সিউড়ির মাটি আজ শুধু মোদীর ভাষণই শুনল না, সাক্ষী থাকল এক মানবিক গল্পের।
