‘পেটে খিদে, হাতে মুড়ি-তবু মোদীকে দেখা চাই!” সিউড়ির মাঠে প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবেসে বীরভূমের কর্মীদের ত্যাগের গল্প

Modi in Birbhum: রাজনীতিতে কেউ মাপেন ভোটের অঙ্ক, কেউ করেন আসন সংখ্যা নিয়ে কাটাছেঁড়া। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বীরভূমের সিউড়িতে মোদীর সভায় যে দৃশ্য দেখা গেল, তার কোনো মাপকাঠি হয় না। সেই দৃশ্য কেবল আবেগের, কেবল ভালোবাসার।

চৈত্রের বৃহস্পতির দুপুরে পেটে টান দিচ্ছে খিদে, তাতেও লক্ষ্য থেকে বেরিয়ে আসার গল্প নেই। সাতসকালে লোহাপুর কিংবা নলহাটির অখ্যাত গ্রাম থেকে বাসে চড়ে যারা সিউড়িতে এসেছিলেন, তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেবল একজন রাষ্ট্রনেতা নন, যেন ঘরের কাছের কোনো আপনজন। সিউড়ির চাঁদমারি মাঠ সাক্ষী থাকল এক অদ্ভুত লড়াইয়ের-পেটের খিদের সাথে মনের ইচ্ছার লড়াই।

মাঠের এক কোণে দেখা গেল গাড়ির পার্কিং এলাকায় মাটির উনুন ধরিয়ে রান্না করছেন কিছু মানুষ। মেনু সামান্য—ভাত আর আলু পোস্ত। আবার মাঠের অন্য প্রান্তে ভিড়ের চাপে রান্নার সুযোগটুকুও জোটেনি যাদের, তারা পকেট থেকে মুড়ির প্যাকেট বের করে লঙ্কা দিয়ে চিবিয়েই কাটিয়ে দিলেন ঘণ্টা পর ঘণ্টা। তাদের কথায়, “মোদীজিকে দেখা চাই। এমন সুযোগ তো বারবার আসে না।”

দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই নিচুতলার কর্মীদের ভিড়ে মিশে গিয়েছিলেন এমন অনেক মানুষ, যাদের কাছে রাজনীতি বড় নয়, বড় হলো নিজের চোখে প্রধানমন্ত্রীকে একবার দেখার স্বপ্ন। কেউ প্রধানমন্ত্রীকে দেখে দু হাত তুলে প্রণাম করছেন, আবার কেউ ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে উচ্ছাসে ফাটছেন। তাদের কাছে এটাই পরম সৌভাগ্য।

কোনো আভিজাত্য নেই, নেই কোনো ভিআইপি খাতির—সিউড়ির ধুলোমাখা মাঠে বসে মুড়ি খেয়ে দিন কাটিয়ে দেওয়া এই সাধারণ মানুষগুলোই বুঝিয়ে দিলেন, বীরভূমের মাটিতে বিজেপি কর্মীদের কাছে ‘মোদী’ শুধু একটি নাম নয়, একটি আস্ত আবেগ। দিনের শেষে ক্লান্ত শরীরেও তাদের চোখেমুখে কোনো ক্ষোভ ছিল না, ছিল এক প্রশান্তি—”মোদী দর্শন”