Gold Price Crash : বিনিয়োগ না ধাঁধা? সোনার দামে বিরাট পতনের ইঙ্গিত

Gold Price Crash : সোনাকে বলা হয় স্ত্রী ধন। কারণ পরিবারে বিপদে আপদে এই সঞ্চয়ই কাজে আসে। তবে বর্তমানে যে হারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে সোনা কেনা তো দূর, সোনাকে ছুঁয়ে দেখতেও ভয়ে করছে সাধারণ মানুষের। তবে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীরা ফুলেফেপে উঠেছে। ঠিক তেমনই অন্যদিকে যারা বিবাহ বা অন্যান্য কারণে সোনার গয়না কেনেন তাদের রীতিমত নাজেহাল অবস্থা। তবে এই ব্যাপক মাত্রায় সোনার দাম বৃদ্ধির বাজারে এবার এক দারুণ সুখবর অপেক্ষা করছে গ্রাহকদের জন্য। পরবর্তী বছরগুলিতে সোনা কেনা হবে সহজ। কারণ সোনার দামে এক বিরাট পতন ঘটতে পারে। জানা গিয়েছে, ৩৮% পর্যন্ত কমতে পারে সোনার দাম। গত সোমবার দেশে ২৪ ক্যারাট ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ৮৯,৫১০ টাকা। যদি ৩৮% পতন হয়, তবে ১০ গ্রাম ৫৫,৪৯৬ টাকায় এসে দাঁড়াবে। যা গ্রাহকদের কাছে অবিশ্বাস্য এই বাজারে।

সোনার দাম প্রতি আউন্স ১,৮২০ ডলারে কমে দাঁড়াতে পারে। যা এখনকার দাম থেকে প্রায় ৩৮% কম হবে যা আমেরিকান ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ফার্ম মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক জন মিলস এর তরফে জানানো হয়েছে। তবে হঠাৎ কেন হু হু করে বাড়ছে সোনার দাম?
মূলত সোনার দাম বাড়ার একাধিক কারণ রয়েছে। যার মধ্যে প্রধান কারণ গুলি হচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে সংশয় এবং উল্লেখযোগ্যভাবে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি। এই কারণে অন্যান্য বিনিয়োগের মাধ্যমকে দূরে সরিয়ে লাভবান হওয়ার আসায় সোনাতে বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেড়েছে।

এবার আসা যাক, সোনার দামে পতন কেন হবে সেই কারণে। জন মিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথমত, ব্যাপক হারে সোনার সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোনার দামে যখন আগুন লাগে সেসময় মানুষ অতিরিক্ত তা খনন করতে শুরু করে। সোনার খনি শ্রমিকদের গড় মুনাফা ছিল $৯৫০ প্রতি আউন্স ২০২৪ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে যা ২০১২ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিশ্বের মোট সোনার মজুত ৯% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৬,২৬৫ টনে। এছাড়া এমন অনেক দেশ রয়েছে বিশেষত এক্ষেত্রে নাম নিতেই হয় অস্ট্রেলিয়ার যারা বড় পরিসরে সোনার উৎপাদন ক্রমশই বাড়িয়ে তুলছে। তা বাদেও পুরনো সোনার পুনর্ব্যবহারও খুব বেশি পরিমাণে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। যার ফল স্বরূপ বাজারে সোনার পরিমাণ আরও বেড়ে উঠছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সরবরাহের কারণে দামের উপর চাপ বেড়ে এটি গ্রাহকদের কাছে সস্তায় এসে পৌঁছবে।

দ্বিতীয়ত, সোনার চাহিদা কমার আশঙ্কা রয়েছে। একাধিক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং বিনিয়োগকারী বিগত কয়েক বছরে প্রচুর পরিমাণে সোনা কিনেছে। তবে এই সোনা ক্রয়ের আগ্রহ বা ইচ্ছা সমান থাকবে কিনা পরবর্তী সময়ে তা বলা মুশকিল। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির তরফে ১০৪৫ টন সোনা ক্রয় করা হয়েছিল। যা টানা তিন বছর যেখানে ক্রয়ের পরিমাণ ১০০০ টনের উপরে রয়েছে৷ তবে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সমীক্ষা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ৭১% এর মতে, তারা পরবর্তী বছর গুলিতে তাদের গোল্ড হোল্ডিং হ্রাস করতে পারে বা এটি পূর্বের মতো বজায় রাখবে।

আবার অন্যদিকে, জন মিলসের দেওয়া তথ্যের সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছেন। জন মিলস যেমন সোনার দামে ৩৮% পতনের আসায় বুক বাঁধছেন। অপরদিকে, অনেক বড় মাপের বিশ্লেষকের মতামত উল্টো সুরে কথা বলছে। ওয়াল স্ট্রিটের অনেক বড় বিশ্লেষক এর তরফে জানা গিয়েছে, এখন যা দাম রয়েছে সোনার তার থেকেও লাগামছাড়া হতে পারে সোনার দাম। আগামী বছর গুলিতে গ্রাহকদের মনে সোনার দাম সত্যি স্বস্তি দেবে নাকি ঘুম উড়িয়ে দেবে তা সময় বলবে।