আনুমানিক ৪০০ বছরের প্রাচীন অজয় নদের তীরে ইলামবাজার ব্লকের জয়দেব কেন্দুলী মেলা। বর্তমানে এই মেলা জয়দেব মেলাই নামে বহুল পরিচিত। কেউ কেউ এই মেলার বয়স ৬০০ বছরের বেশি বলেও দাবি করে থাকেন। প্রতিবছর মকর সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নানের জন্য এখানে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। এত মানুষের সমাগম দেখে অনেকেই আবার এই মেলাকে মিনি গঙ্গাসাগর মেলাও বলে থাকেন। আর এই মেলাতেই লক্ষ্য করা যায়, অজয় নদের ধারে সারি সারি ভাবে রাখা থাকে মা কালী থেকে শুরু করে মহাদেব শ্রীকৃষ্ণ-সহ অন্যান্য দেব দেবীর মূর্তি। এর পিছনে কী কারণ রয়েছে? কারণ জানতে পুরো ভিডিও দেখুন, আজকের এই ভিডিওটি একটু লম্বা হতে চলেছে।
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক, কেন এই মেলায় মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের জন্য হাজার হাজার মানুষ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন? এর কারণ জানিয়েছেন এই বছর মেলায় আসা পুণ্যার্থী বিশ্বজিৎ বাবু। তিনি এই বছর প্রথম মেলায় আসছেন এমন নয়, ৪৭ বছর ধরে তিনি জয়দেব মেলায় আসছেন বলেই জানিয়েছেন।
এছাড়াও উত্তরায়নের বিষয়টিকে নিয়ে জয়দেব মেলার মাহাত্ম্য সম্পর্কে জানিয়েছেন মদনমোহন দাস ব্রহ্মচারী। যিনিও অধিকাংশ বছরই জয়দেব মেলায় আসেন।
মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে গঙ্গাস্নান অথবা অজয়ে স্নান গঙ্গাস্নানের সঙ্গেই তুলনা করা হয়। আর সেই কারণেই পুণ্য লাভের আশায় হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় জয়দেব মেলায়। আর এই পুন্য লাভের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে অজয় নদের তীরে থাকা সারি সারি দেব দেবীর মূর্তি।
কথিত আছে, অজয় নদে মকর সংক্রান্তির দিন পুণ্য স্নান সেরে দেবী কালী থেকে শুরু করে অন্যান্য দেব দেবীর পুজো দিলে পুণ্য লাভের পাশাপাশি শরীরের অনেক রোগ সেরে যায়। সেই বিশ্বাস থেকেই হাজার হাজার মানুষ প্রতিবছর অজয় নদের তীরে থাকা দেবদেবীর মূর্তিতে পুণ্য স্নানের পর পুজো দেন। অনেকেই ধুপকাঠি জ্বালিয়ে পুজো দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি ঈশ্বরকে উপলক্ষ করে দক্ষিণা অর্থাৎ নগদ অর্থ বা অন্যান্য সামগ্রী দান করে থাকেন অনেকেই। এসবের কারণেই স্থানীয় থেকে শুরু করে বাইরে থেকে আসা অনেক মানুষ, সাধু সন্তরা বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি নিয়ে মকর সংক্রান্তির ভোর থেকে বসে পড়েন অজয় নদের তীরে। আর ঐ সকল দেব-দেবীকে উপলক্ষ করে আগত পুণ্যার্থীরা যে সকল দান দিয়ে থাকেন সেগুলি গ্রহণ করে থাকেন তারা।
তবে এই সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাস ভিত্তিক। সনাতন ধর্মাবলম্বী বহু মানুষ এই বিশ্বাসের উপর ভর করেই প্রতিবছর মকর সংক্রান্তিতে ভিড় জমান গঙ্গাসাগর থেকে শুরু করে অজয়ে, বিশ্বাসের উপর ভর করেই প্রতিবছর পুণ্য স্নানের পর পুজো দিয়ে থাকেন মা কালী মহাদেব রাধাকৃষ্ণ থেকে শুরু করে অন্যান্য দেব দেবীদের।
