প্লাস্টিকমুক্ত বাংলার প্রথম বড় লোকউৎসব! ‘নির্মল জয়দেব মেলা’ ঘোষণা প্রশাসনের

জয়দেব কেন্দুলি মেলা ২০২৬ এবার হবে সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত। বীরভূমের ইলামবাজারে অজয় নদীর তীরে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে ‘নির্মল জয়দেব মেলা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। গত বছর সাড়ে আট লক্ষেরও বেশি দর্শক এসেছিলেন। এবার ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা। পরিবেশবান্ধব এই জয়দেব মেলায় ক্ষতিকর প্লাস্টিক বা থার্মোকল নিষিদ্ধ। পরিবর্তে কাপড়ের থলে, শালপাতার প্লেট আর মাটির গ্লাসের ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে।

Joydeb Kenduli Mela 2026

জয়দেব কেন্দুলি মেলা হলো কবি জয়দেবের জন্মস্থানে আয়োজিত একটি প্রাচীন উৎসব। জয়দেব রচনা করেছিলেন ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্য, যা রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের গান। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে এখানে জড়ো হন বাউল সাধকরা। আখড়ায় গান-বাজনা চলে সারারাত। এটি বাংলার লোকসংস্কৃতির হৃদয়। ইউনেস্কো এই বাউল ঐতিহ্যকে বিশ্ব heritage হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২৬-এ এই মেলা ‘গোলক লোকউৎসব’ হিসেবে বিস্তারিত হচ্ছে, যেখানে বিদেশি লোকশিল্পীরাও যোগ দেবেন।

প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশের জন্য বড় পদক্ষেপ

এবারের জয়দেব কেন্দুলি মেলা ২০২৬-এ প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে। মেলা চত্বরে অটোমেটিক মেশিন থেকে কাপড়ের ব্যাগ কেনা যাবে। স্বনির্ভর গ্রুপের সদস্যরা সস্তায় শালপাতা ও মাটির জিনিস বিক্রি করবেন। উন্মুক্ত শৌচালয় নিষিদ্ধ। ৪০টি স্থায়ী শৌচাগার ছাড়া ২৫০টি অস্থায়ী টয়লেট তৈরি হচ্ছে। গঙ্গাসাগর মেলার মতো এখানেও প্লাস্টিক নিষেধাজ্ঞা কড়া করা হয়েছে, যা বছরে ৩ লক্ষ টন প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুনঃ জেলা সভাপতি হয়েই পুলিশকে হুঁশিয়ারি, ওবিসি মোর্চার ডেপুটেশনে সিউড়িতে পুলিশ বিজেপি ধস্তাধস্তি

কতদিন চলবে জয়দেব কেঁদুলি মেলা?

জয়দেব মেলা শুরু ১৩ জানুয়ারি, চলবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৮ তারিখে দোকান গুটিয়ে নেওয়া হবে। ৬১২টি স্টল, ১১০টি স্থায়ী আখড়া আর ১৭০টি অস্থায়ী আখড়া থাকবে। ১৩-১৪ জানুয়ারি ‘গঙ্গা আরতি’ হবে অজয় তীরে। ‘বাউল তীর্থ’ ম্যাগাজিনের নতুন সংখ্যা প্রকাশিত হবে। ১৭ তারিখে প্রথমবার ‘জয়দেব স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠিত হবে।

মেলায় ভিড় সামলাতে ২৫০০ পুলিশ মোতায়েন। ১৫০টি সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার ও সহায়তা কেন্দ্র থাকবে। সবাইকে নিরাপদে উৎসব উপভোগ করতে বলেছে প্রশাসন। এই প্লাস্টিকমুক্ত জয়দেব কেন্দুলি মেলা ২০২৬ হবে বাংলার গর্ব!