National Highway : সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ভারতীয় পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতিকরণ ঘটছে। বাদ পড়েনি জাতীয় সড়ক পথ নির্মাণের কাজও। নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সড়কের টোল ট্যাক্স আগামী মাসের শুরু অর্থাৎ পয়লা এপ্রিল থেকে বৃদ্ধি হওয়ার কথা রয়েছে। আর এই টোল ট্যাক্স বাড়ানো নিয়ে এবার বেসরকারি বাস সংগঠন পরিবহণ দফতরকে চিঠি জমা দিয়েছে। প্রতি বছর এপ্রিল মাসের প্রথম তারিখ থেকে নিয়ম অনুযায়ী গোটা দেশ জুড়ে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয় জাতীয় সড়কের টোল ট্যাক্স। যা কার্যকর করা হবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে।
এই কারণে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করে পরিবহণ দপ্তরকে চিঠি পাঠিয়েছে। মূলত রাজ্যের বুকে অবস্থিত জাতীয় সড়কগুলিতে টোল ট্যাক্স বাড়ানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পূর্ত সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের সাথে রাজ্য সরকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং এবার রাজ্য সরকারের তরফে বেসরকারি পরিবহণ সংগঠনগুলির দাবির কথা জানানো হোক কেন্দ্রীয় সরকারকে এমনটাই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের কোনও স্তরে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি গত আট বছর ধরে যার ফলে বেসরকারি বাসমালিকদের আয়ের কোনও পরিবর্তন হয়নি।
উপরন্তু সারা দেশে লকডাউন জারি হওয়ার কারণে বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই কারণ উল্লেখ করে পরিবহণ দফতর এই রাজ্যে টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি না করার আবেদন জানিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নিকটে। ‘‘বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসা কী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা আমরা বাসমালিকেরা প্রতি সময় বুঝতে পারছি। তার মধ্যে বাড়তি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এর তরফে টোল ট্যাক্স বাড়ানো হলে আমাদের পক্ষে বাস পরিষেবা দেওয়া সহজ হবে না একবারেই” এমন কথা জানিয়েছেন জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের নেতা তপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার কথায়, ‘‘জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নিজেদের আইনের আওতায় রয়েছে। জাতীয় সড়কের সংলগ্ন একটি সার্ভিস রোড থাকতে হবে এমনটাই উল্লেখিত রয়েছে ওই আইনে। জাতীয় সড়ক ব্যবহার না করে টোলের খরচ না মিটিয়ে কোনও ব্যক্তি তার নিজ ইচ্ছা মতো সেই সার্ভিস রোড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে আমাদের রাজ্যের বুকে কোনও জায়গায় জাতীয় সড়কের সঙ্গে সার্ভিস রোড গড়ে ওঠেনি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি হলে, রাজ্যে সার্ভিস রোডও গড়ে ওঠা উচিত।”
পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫২টির কাছাকাছি জাতীয় সড়ক পথ রয়েছে সমস্ত প্রান্ত নিয়ে। টোল ট্যাক্স এর পরিমান প্রায় ৫ শতাংশ বাড়ানো হবে গাড়ি ও হালকা যানবাহনের জন্য। অন্যদিকে প্রায় ১০ শতাংশ টোল ট্যাক্স বাড়বে ভারী যানবাহনের জন্য। এখন জাতীয় সড়কগুলিতে টোল ট্যাক্স প্রতি কিমিতে খরচ পড়ে ২.১৯ টাকা। সংশ্লিষ্ট সড়ক ও টোল প্লাজার উপর নির্ভর করে এই ট্যাক্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে। যেসব মানুষজন টোল প্লাজার ২০ কিমি এলাকার মধ্যে বসবাস করে তাদের কথা মাথায় রেখে মাসিক পাসের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হবে।
এই টোল ট্যাক্স বাড়ানো হলে ফল স্বরূপ জাতীয় সড়কগুলিতে যাতায়াতের খরচ বেশ ভালো মতোই বৃদ্ধি পাবে। মিনিবাস সমন্বয় সমিতির নেতা রাহুল চট্টোপাধ্যায়ের জানিয়েছেন এর ফল স্বরূপ বেসরকারি বাস চালানোর খরচ বেশ কিছুটা বেড়ে যাবে। তার কথা অনুযায়ী ‘আমাদের তরফে পরিবহণ দফতরকে অনুরোধ করা হবে যাতে আমাদের দাবিগুলি ভালোভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট জানানো হয়। আমাদের মতামতের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ নিজেদের সিদ্ধান্ত আমাদের কাঁধে ফেলে দেবে এমন সম্ভব নয়। এই জন্য বেসরকারি বাস সংগঠন গুলির দাবি পরিবহন দফতরের তরফে কেন্দ্র সরকারের কাছে তুলে ধরা উচিত।” এখন দেখার কোন দিকে মোড় নেয় টোল ট্যাক্স সম্পর্কিত এই বিষয়টি।