Staying Hydrated : দাঁড়িয়ে জলপান করা স্বাস্থ্যকর নাকি ক্ষতিকর? বিশেষজ্ঞদের দ্বিমত

Staying Hydrated : জল জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। জল ছাড়া তাই জীবনকে কল্পনা করা যায়না। ইতিমধ্যেই তাপমাত্রার পারদ হু হু করে চড়ছে। এই গরমে ঠান্ডা জল যেন অমৃত সমান। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের একাংশ শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করতে নানান ফলমূল খাওয়ারও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এছাড়া শরীরে জলের ভারসাম্য রক্ষা যে কতটা জরুরী তাও বুঝিয়ে দেন তারা। দাঁড়িয়ে জল খেলে নাকি শরীরের জয়েন্টগুলোতে ঝুঁকি বাড়তে এবং যন্ত্রণার জ্বালায় ভুগতে হতে পারে এমন একটি বহু প্রচলিত ধারনা রয়েছে। জলপান করার সঠিক ধরণ আসলে দাঁড়িয়ে নয়, বসে জলপান করা উচিত এই কথা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। তবে এই বহুল প্রচলিত ধারণা কী আদেও যুক্তিসঙ্গত? নাকি সবটাই মনের ভুল? আসুন কোনটা ঠিক জেনে নেওয়া যাক এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

সম্প্রতি, এই জলপান সম্পর্কিত একটি রিল সমাজ মাধ্যমের পাতায় ভাগ করেছেন নামকরা ডায়েটিশিয়ান জুহি অরোরা। তিনি দাবি করছেন, এই জলপান সম্পর্কিত একবারে যুক্তিহীন। ভিডিওতে তিনি জানাচ্ছেন, “এমনসব গুজবগুলি যুগের পর যুগ ঘুরপাক খাচ্ছে, এর পিছনে কোনও বৈজ্ঞানিক কারণের উপস্থিতি নেই।” তার মত অনুযায়ী “আমরা যখন জলপান করি, তা খাদ্যনালীর মাধ্যমে পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জল পান করলে হাঁটুর উপর বাড়তি চাপ বাড়তে পারে এমন ধারনাটিতে বাস্তবতা নেই। এটি মিথের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রচলিত বিশ্বাস যে দাঁড়িয়ে জল পান করলে তা খুব তাড়াতাড়ি পেট শোষন করে নেয় যার ফলে অস্বস্তি বা বদহজম সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি কোনও দিকথেকেই হাঁটু ভালো থাকার সাথে জড়িত নয়।”

যদিও অপরদিকে সম্প্রতিকালে দিল্লির অ্যাপোলো স্পেকট্রারের স্বনামধন্য জেনারেল ফিজিশিয়ান ডাঃ বিপুল রাস্তোগি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “দাঁড়িয়ে জলপান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই ভালো নয়।” তার মত অনুযায়ী “মানুষ দাঁড়িয়ে জল পান করলে, জল দ্রুত খাদ্যনালীতে গিয়ে পৌঁছায়। যার ফলে পেটে গিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় মুশকিল হয়। বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় স্নায়ুগুলির ওপর। যা ব্যক্তির শরীরে তরল পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে জয়েন্টগুলিতে তরল জমা হতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে আর্থ্রাইটিসের মতো রোগের কারণ হতে পারে।” সুতরাং একজন পুষ্টিবিদ ও একজন ডাক্তারের কথায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মতামত প্রকাশ পেল।

তবে এখানেই যুক্তি তর্ক শেষ নয়। ডঃ বিপুল রাস্তোগি আরও কিছু দাবি করেছেন তার কথায়, “আমরা যদি দাঁড়িয়ে জলপান করি, সেক্ষেত্রে জরুরি পুষ্টি এবং ভিটামিন পরিপাকতন্ত্রে সঠিকভাবে প্রবেশে বাঁধা পায়। ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জলপান করলে, বাড়তি চাপে তরল পদার্থটি কোনও পরিস্রাবণ ছাড়াই পেটের নীচের অংশে চলে যায়। যার ফল স্বরূপ, বাড়তি জল মূত্রাশয়ে জমা হয় এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে নষ্ট করে।” দুটি মতামত ভিন্ন দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থেকে নিজের জীবনযাপন সাজিয়ে তুলুন।