বাংলায় নিপা ভাইরাস? বারাসাতে আক্রান্ত দুই, চালু হল হেল্পলাইন

পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) সংক্রমণের সন্দেহ উঠেছে দুই নার্সের ওপর। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে কর্মরত এই দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। নমুনা পাঠানো হয়েছে পুনের ল্যাবে নিশ্চিতকরণের জন্য। রাজ্য সরকার সতর্ক, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পরিস্থিতি নজরে রেখেছেন। নিপা ভাইরাসের এই সম্ভাব্য আক্রমণে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সতর্কতা অবলম্বনের বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।

Nipah Virus in West Bengal

সোমবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, ওই নার্সদের সংস্পর্শে আসা লোকজনের খোঁজ চলছে। সম্প্রতি তাঁরা বর্ধমানে গিয়েছিলেন, সেখানকার এলাকায়ও তদন্ত শুরু। উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান ও নদীয়ায় কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং চালানো হচ্ছে। হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে তাঁদের, চিকিৎসা চলছে পুরোদমে। ইতিহাস বলছে, ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে নিপা আক্রমণে অনেক প্রাণহানি হয়েছিল।

নিপা ভাইরাসের লক্ষণ ও ছড়ানোর উপায়

নিপা সংক্রমণ শুরু হয় সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা, বমি দিয়ে। পরে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, এমনকি কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি। মৃত্যুর হার ৪০-৭৫ শতাংশ। মূল উৎস ফলখেকো বাদুড়, তাদের লালা-দূষিত ফল বা শূকর থেকে ছড়ায়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণও সম্ভব, বিশেষ করে আক্রান্তের জিনিসপত্র স্পর্শ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি সাধারণ।

আরও পড়ুনঃ প্লাস্টিকমুক্ত বাংলার প্রথম বড় লোকউৎসব! ‘নির্মল জয়দেব মেলা’ ঘোষণা প্রশাসনের

সরকারের তৎপরতা ও হেল্পলাইন

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা মমতার সঙ্গে কথা বলে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনটি হেল্পলাইন চালু: ০৩৩-২৩৩৩০১৮০, ৯৮৩৬০৪৬২১২, ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮। আতঙ্কিত হবেন না, কিন্তু সতর্ক থাকুন।

প্রতিরোধের সহজ উপায়

হাত ধোয়া, ফল-সবজি ভালো করে ধুয়ে খাওয়া, বাদুড়-ছোঁয়া ফল এড়ানো – এগুলো মেনে চলুন। শূকরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। টিকা নেই, তাই দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি লক্ষণ দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকলে সচেতন হোন।