Loco pilot Urinals: লোকো পাইলটদের সুবিধার্থে মালগাড়ির ইঞ্জিনে তৈরি হচ্ছে জলবিহীন অত্যাধুনিক শৌচালয়! কোথায় হচ্ছে জানেন?

যত দিন যাচ্ছে ততই ভারতীয় রেল ব্যবস্থার উন্নতিসাধন হচ্ছে। প্রায় প্রত্যেক রাজ্যের ওপর দিয়ে ছুটছে সেমি হাই স্পিড বন্দে ভারত ট্রেন। আবার দেশের বুকে হাইড্রোজেন ট্রেনের ট্রায়াল রানও সম্পূর্ণ হয়েছে কিন্তু লোকো পাইলটদের অবস্থার কোনও উন্নতি হচ্ছে না। এবার এই লোকো পাইলটদের কথা মাথায় রেখে পণ্যবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে লোকো পাইলটদের জন্য অত্যাধুনিক শৌচালয় তৈরি হচ্ছে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কসের ডানকুনি শাখায় ৷ প্রসঙ্গত, মালদা ডিভিশনে রেললাইন পারাপার করে শৌচকর্ম করতে গিয়ে বেশকিছু মাস আগে মহিলা লোকো পাইলট ট্রেনের তলায় পড়ে মারা যান। এরপর থেকেই মালগাড়িতে লোকো পাইলটদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য শৌচালয় তৈরির জন্য যৌথভাবে মাঠে নেমেছেন চালক ও গার্ডরা৷

পণ্যবাহী অধিকাংশ ট্রেনের ক্ষেত্রেই চালক বা সহকারী চালকদের জন্য শৌচালয়ের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। গোটা দিনের অর্ধেক সময় ট্রেন চালাতে হয় তাদের কোনসময় শৌচকর্ম করা গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও তাদের কাছে কোন উপায় থাকেনা। এর ফলে একাধিক পুরুষ ও মহিলা চালক নিত্যদিন অসুস্থতার শিকার হন। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল মহারানি কুমারীর ক্ষেত্রে৷ তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই ফের লোকো পাইলটরা সরব হয়েছেন। তাদের ব্যবহারের জন্য ইঞ্জিনের ভিতরে শৌচালয় নির্মাণের দাবি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে গোটা দেশের লোকো পাইলট সংগঠনগুলি।

আরও পড়ুন: Rare Rabbit Species: পৃথিবীর বুকে ১২০ বছর পর এক বিরল প্রাণীর অস্তিত্ব সামনে এলো! কে সেই প্রাণী?

দীর্ঘদিন দাবি জানিয়েও তেমন কোন সুরাহা হয়নি।সংগঠনগুলির তরফে রেল বোর্ডের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। গত ১৮ই মার্চ রাজ্যসভায় সাংসদ দোলা সেন এর তরফে লোকো পাইলটদের দুর্বিষহ পরিস্থিতির উঠে আসে সবার সম্মুখে। অপরদিকে, সংসদে রাহুল গান্ধিকেও ইঞ্জিনে শৌচালয় বসানো ও ইঞ্জিনে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বসানোর কথা নিয়ে জোর দিতে দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় রেলে মহিলা চালকদের সংখ্যা বৃদ্ধির জেরে এবার নড়ে চড়ে বসেছে রেল কর্তৃপক্ষ। নতুন ধরনের ইঞ্জিনগুলিতে একমাত্র শৌচালয় এর ব্যবস্থা থাকে। তবে তা সংখ্যায় অনেক কম। তবে এবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কসের ডানকুনি শাখায় নতুন ধরণের দুটি ইঞ্জিন নির্মিত হয়েছে। যেখানে ব্যবস্থা থাকবে ‘ওয়াটারলেস টয়লেটের’ তবে এই শৌচালয়গুলি সাধারণত চালকরা মূত্রত্যাগের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।

ডানকুনি শাখার এক আধিকারিক এর তরফে জানা গিয়েছে, ” ইঞ্জিনের মধ্যে খুব সীমিত জায়গা থাকায়, ইঞ্জিনের ভেতরে যে শৌচালয় বসানোর কথা হচ্ছে তা আকারে খুবই ছোট বলে জলের ট্যাঙ্ক বসানোর জায়গা অবধি নেই। এই কারণে মূত্রত্যাগের জন্যই ব্যবহার করা যাবে ইঞ্জিনের ভিতর তৈরি শৌচালয়। এটি জলবিহীন হওয়ার কারণে এমন ব্যবস্থা রয়েছে যা মূত্রকে ওডারলেস বা গন্ধহীন জলে পরিণত করে দেবে।” তার কথায়, ” এই মুহূর্তে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি লোকোতে এই পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা সফল হলে ও এই ব্যবস্থায় বাড়তি কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন কিনা সমস্ত দিকগুলি বিবেচনা করে, একে একে অন্য লোকো ইঞ্জিনেও এই শৌচালয় বসানোর কাজ শুরু হবে।”

শৌচালয়গুলিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। অটোম্যাটিক ডোর লক সিস্টেম রয়েছে শৌচালয়গুলিতে। চলন্ত ট্রেনে শৌচালয় দরজা খুলবে না। ট্রেন যখন দাঁড়িয়ে থাকবে একমাত্র তখনই খুলবে শৌচালয়ের দরজা। তা বাদেও প্রতিবার শৌচালয় ব্যবহার করার পর তাতে নিজে থেকেই সুগন্ধি ও স্যানিটাইজার স্প্রে হয়ে যাবে, যাতে কোনওরকম দুর্গন্ধ বা জীবাণু না ছড়াতে না পারে। শৌচালয় এর ভেতরে ঢুকলে অটোমেটিক আলো ও ফ্যান চলতে শুরু করবে। অতিবেগুনী রশ্মি দিয়ে শৌচালয়টিকে জীবাণুমুক্ত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৮ মার্চ লোকসভায় আলোচনা পর্বে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে, “৫৫৮ টি রানিং রুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং এক হাজার দশটি লোকোমোটিভের ইঞ্জিনে চালকদের জন্য শৌচালয় বসানো হয়েছে । যে নতুন ধরনের লোকোমোটিভ ইঞ্জিন তৈরি হচ্ছে সেগুলিতে শৌচালয় বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”