গাড়ি চালাতে চালাতে অচৈতন্য চালক যুবতী, যুবকের উপস্থিত বুদ্ধিতে বাঁচল প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদন : ব্যস্ত জাতীয় সড়কে একের পর এক গাড়ি ছুটে চলেছে নিজের ছন্দে। কিন্তু এরই মাঝে লক্ষ্য করা যায় একটি গাড়ি হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। ওই গাড়িটি কখনো রাস্তায় ব্যারিকেড পার করে নিজের ছন্দ ছাড়া ভাবে ছুটে চলেছে ঘাস জমিতে। আবার কখনো টালমাটাল ভাবে রাস্তায় উঠে ও নেমে পড়ছে জমিতে।

ওই গাড়ির টালমাটাল ভাবে রাস্তায় চলা দেখে এক যুবক টের পান কিছু একটা হয়েছে। এর পরেই তিনি ওই গাড়িকে থামানোর জন্য উঠেপড়ে লাগেন। অবশেষে নিজের উপস্থিত বুদ্ধিতে ওই গাড়িটিকে থামাতে সক্ষম হন ওই যুবক। যুবকের উপস্থিত বুদ্ধিতে কোনোক্রমে বেঁচে যান ওই সংজ্ঞাহীন গাড়ির চালক।

জাতীয় সড়কে যাওয়ার সময় ওই যুবক তার সামনে এইভাবে টালমাটাল গাড়িটিকে দেখতে পেয়ে তাকে থামানোর জন্য নিজের গাড়ির গতি বাড়ান। গাড়ির গতি বাড়িয়ে ওই গাড়ির সামনে নিজের গাড়িকে নিয়ে যান। এরপর আস্তে আস্তে গতি কমিয়ে ওই গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগান। তারপরই যুবকের গাড়ির গতির কন্ট্রোলের সঙ্গে ওই গাড়িটি থামে।

তাড়াতাড়ি ওই যুবক নিজের গাড়ি থেকে বেরিয়ে সংজ্ঞাহীন গাড়ির চালকের কাছে এসে গাড়ির দরজা খোলেন। যেখানেই দেখা যায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই গাড়ীতে চালকের আসনে বসে রয়েছেন এক যুবতী। ওই যুবতী ক্রমাগত বমি করার পাশাপাশি কিছু একটা বলার চেষ্টা করছেন। ঘটনার পরই সঙ্গে সঙ্গে জরুরী নম্বরে ফোন করে ওই যুবতীকে পুলিশের মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা গিয়েছে শুক্রবার এই ঘটনাটি ঘটেছে নেদারল্যান্ডসের একটি হাইওয়েতে। সেখানে ২৮ বছর বয়সী হেনরি টিমারম্যান্স নামে এক যুবক নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এবং নিজের গাড়ির ক্ষতি করেও অন্যের প্রাণ বাঁচানোর জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হতেই ওই যুবকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব।

দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করা ওই যুবক হেনরি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ওই মহিলার পাঁচ খানা হাড় ভেঙে গিয়েছে। তবে কী কারণে ওই মহিলা জ্ঞান হারিয়েছিলেন তা তিনি জানতে পারেননি।