Brain-Computer Interface : এই ডিজিটাল যুগে ৮ থেকে ৮০ প্রায় সকলের হাতেই স্মার্টফোন। তবে করোনা কালের পর থেকে স্মার্টফোন কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহৃত হয় তা নয়।বরং এটি সকলের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবসর সময়ে গান শোনা থেকে সিনেমা দেখা, আবার প্রয়োজনে অনলাইনে ক্লাস করার মত কাজেও দরকার পড়ে স্মার্টফোনের। বর্তমান দিনে খুচরো পয়সার ঝুট ঝামেলা এড়াতে অধিকাংশ মানুষই বেছে নেয় অনলাইনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন। তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতিতে মানুষের জীবনধারাও হয়েছে সহজ।
আর এবার প্রযুক্তি একেবারে শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছে। কারণ এবার থেকে নাকি আর মুঠোফোনের প্রয়োজনই হবে না। তার পরিবর্তে মানুষের নিজ ভাবনার সাহায্যে স্মার্টফোনের প্রয়োজনীয় কাজ চটজলদি মিটিয়ে নিতে পারবেন মানুষজন। এমন দাবি করেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ইলন মাস্কের। স্মার্টফোনের বাজারকে চিরতরে বন্ধ করতে এবার নতুন একটি প্রযুক্তি নির্মাণের কাজে হাত লাগিয়েছে মাস্কের সংস্থা ‘নিউরালিঙ্ক’। যার পোশাকি নাম আবার ‘ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস’।
এটির জন্য অতি ক্ষুদ্র একটি চিপ তৈরিতে ব্যস্ত তারা।অস্ত্রোপচারের সাহায্যে ছোট্ট চিপটি গ্রাহকের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করা হবে এমনটাই জানা গিয়েছে মাস্কের সংস্থার তরফে। মূলত তাদের নির্মিত এই ক্ষুদ্র চিপটির সহিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডিভাইসের যোগ থাকবে। অস্ত্রোপচারের সাহায্য নিয়ে মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রে যুক্ত হলে ক্ষুদ্র চিপটি তার খেলা দেখাতে শুরু করবে। তারপর গ্রাহক তার মনে যা চিন্তা ভাবনা করবেন সেইমতো বিষয়বস্তু মুহূর্তেই তার মস্তিষ্কে এসে ধরা দেবে এমনটাই দাবি করেছে মাস্কের সংস্থা।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, মস্তিষ্কে চিপযুক্ত গ্রাহক অন্যকারোর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চাইলে মুহূর্তেই সেটা করতে পারবেন তিনি। কিন্তু এতে স্মার্ট ফোনের কোনও ভূমিকা থাকবে না। অন্যদিকে, ফোন করার পাশাপাশি সিনেমা দেখা অথবা সহজেই গুগ্ল ম্যাপের মাধ্যমে গন্তব্যের ঠিকানা এআই ডিভাইসের মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্কে থাকা চিপে জানতে পারবেন ওই ব্যক্তি।
ইতিমধ্যেই মাস্কের সংস্থার তরফে দুজনের মধ্যে ‘ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস’ এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেই সহজ নয়, একাধিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী এর সাহায্যে এআই ডিভাইস নির্মাণকারী সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে নিজেদের সুবিধা বা ইচ্ছামতো চালনা বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময়ে নূন্যতম ভুল হলে ওই গ্রাহকের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এই প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকরী ও নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করবে তা নিয়ে এখনো কোনও সদুত্তর মেলেনি।