২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধির অভিযোগে বীরভূম জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা রবি মুর্মুকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার বিকেলে কাঁকসা এলাকা থেকে ইলামবাজার থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশি নজরদারিতে ছিলেন এই তৃণমূল নেতা।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর ইলামবাজার এলাকায় ঘটে যাওয়া একাধিক হিংসার ঘটনার একটি মামলায় তাঁকে এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু হিংসার মামলাই নয়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, প্রকাশ্য তোলাবাজি এবং বাড়ি তৈরি ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য কাটমানি নেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অনিয়মে তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
আরও পড়ুন: লক্ষ্য ছিল বাঁকুড়া, পৌঁছে গেল মদের কাউন্টারে! দুবরাজপুরে পাথুরে লরির ‘মাতাল’ এন্ট্রিতে চরম দুর্ভোগ
বীরভূমের একাধিক নেতার সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রবি মুর্মুর আর্থিক উন্নতি নিয়ে খোদ তাঁর গ্রামের বাসিন্দারাই ক্ষোভ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। এলাকাবাসীদের দাবি ছিল, একসময় রবি মুর্মু অন্যের জমিতে ভাগচাষের কাজ করতেন এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এখনও এই পেশার সঙ্গেই যুক্ত। ইলামবাজারের জঙ্গলমহল সংলগ্ন বনশুলি এলাকায় তাঁর আদি বাড়িটির একটি অংশ এখনও কাঁচা ও ভগ্নপ্রায়। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে, অর্থাৎ তৃণমূলে তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাব বাড়ার পরই কীভাবে তাঁর এই বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধি পেল, তা নিয়েই এখন উঠছে জোরালো প্রশ্ন। পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
