বিশ্বে সর্বপ্রথম সাঁওতালি ভাষায় রামকৃষ্ণ দেবের ‘অমৃত কথা’ : অনুবাদক বিশ্বভারতীর ছাত্র

অমরনাথ দত্ত : বিশ্বে প্রথম শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের ‘অমৃত কথা’ সাঁওতালি ভাষায় অনুবাদ করে অনন্য দৃষ্টান্তের নজির গড়লেন বিশ্বভারতীর ছাত্র শুভময় রায়। অনুবাদের ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তণ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য তথা অধ্যাপিকা ডঃ সবুজকলি সেন। বিশ্বে প্রথম এমন অনুবাদে ফের একবার জেলা গর্বের সম্মুখীন।

অনুবাদক ছাত্র শুভময় রায়ের কথায়, অধ্যাপিকা ডঃ সবুজ কলি সেনের উদ্যোগে এবং উৎসাহে নিরলস নিরন্তর প্রচেষ্টায় ‘রামকৃষ্ণ মিশন ইন্সটিটিউট অফ কালচার (গোলপার্ক, কলকাতা) এর বই ‘অমৃত কথা’ যা সাঁওতালি ভাষায় ‘জেওয়েদ জাগার’ রামকৃষ্ণ সাহিত্য পরিমণ্ডলে প্রথম সাঁওতালি ভাষায় বাংলা হরফে অনুবাদ। বাংলা থেকে ভাবানুবাদ করে সমস্ত বাণীই আছে।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপBanglaXp

অনুবাদের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। আর সমাপ্ত হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। অনুবাদক শুভময় রায়ের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায়। তবে সে ২০১২ সাল থেকেই বিশ্বভারতীর ছাত্র। ২০১৫ সালে সাঁওতালি ভাষায় স্নাতক হন তিনি। পাশাপাশি, ২০১৬-১৮ সালে বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতনের বিনয় ভবন থেকে সাঁওতালি ভাষায় বিএডও করেন।

বিএড করার সূত্রেই তাঁর সাথে যোগাযোগ হয় বিনয় ভবনের তদানীন্তন অধ্যক্ষা ডঃ সবুজ কলি সেনের সাথে। বর্তমানে তিনি বিশ্বভারতীর বিনয়ভবনের এডুকেশনের ছাত্র হিসেবে স্নাতোকত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন। শনিবার বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন আকালীপুর শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রমে বিশ্বভারতীর অধ্যাপিকা সবুজ কলি সেনের উদ্যোগে ‘অমৃত কথা’ বইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও মাধ্যমিকে নজরকাড়া রেজাল্ট করে নয়নের মনি বোমভোলা

নিজস্ব প্রতিবেদন : জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম সিউড়ি অরবিন্দ ইনস্টিটিউট ফর সাইটলেস বিদ্যালয়ের ছাত্র বোমভোলা কৈবর্ত। নিজে পৃথিবীর রঙ আর আলো দেখতে না পেলেও মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করে পরিবারকে দেখাচ্ছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

নিজের ইচ্ছাশক্তি এবং অদম্য চেষ্টাকে মূল মন্ত্র করে সে আজ মাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল করে প্রমান করল শারীরিক অক্ষমতা মানুষের দুর্বলতার কারণ হতে পারে না। কলা বিভাগ থেকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৭২, যা রীতিমত টক্কর দেয় অন্যান্য সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের। বোমভোলা মাধ্যমিকে এত ভালো রেজাল্ট করে স্বপ্ন দেখছে ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার। আগামীদিনে সে বাংলা নিয়ে পড়াশুনা করতে চায়।

ফলাফল প্রসঙ্গে বোমোভোলা বলে, “আমি সারাদিনে নিয়ম মেনে ৮ ঘন্টা করে পড়াশুনা করতাম। আমি ভবিষ্যতে একজন শিক্ষক হতে চায়।”

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপBanglaXp

বোমভোলা দৃষ্টিহীন হওয়ায় জীবনের প্রতিটি পদে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা চলার পথে বাঁধার সৃষ্টি করলেও পড়াশুনার প্রতি ভালোবাসা এবং আগ্রহ তাদের সেই শারীরিক বাঁধাকে হার মানিয়েছে। বোমভোলার প্রাপ্ত নাম্বার বাংলায় ৯৫, ইংরাজিতে ৯১, অঙ্কে ৯২, ভৌত বিজ্ঞানে ৮০, জীবন বিজ্ঞানে ৬১, ইতিহাসে ৭৩ এবং ভূগোলে ৮০।

বোমভোলা যদিও সিউড়ি অরবিন্দ ইনস্টিটিউট ফর সাইটলেস বিদ্যালয়ের ছাত্র, কিন্তু তার আদি বাড়ি পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুরের দূরমুট গ্রামে। বাবা পেশায় একজন সাধারণ চাষী। সুতরাং তার পড়াশোনার পিছনে শুধু শারীরিক বিশেষ সক্ষমতায় বাধা নয়, বাধা আর্থিক স্বচ্ছলতাও। তবে সেসবকে জয় করে সে আজ সকলের নয়নের মণি।

বোমভোলা চার বছর আগে সিউড়ির ওই স্কুলে পড়াশুনা শুরু করে। সে এবছর সিউড়ি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ স্কুল অধিনে রেজিস্ট্রেশন করে পরিক্ষায় বসে। তবে পড়াশুনার সমস্ত দেখভালের দায়িত্ব ছিল অরবিন্দ ইন্সটিটিউটের শিক্ষকদের। বোমভোলার ভালো ফলাফলের বিষয়ে স্কুলের শিক্ষকরা জানান, প্রথম থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহ আমাদের মধ্যেও একটা আশার সঞ্চার করেছিল ভালো ফলাফলের। সেই আশাটি বাস্তবায়িত করলো আজ বোমভোলা।

রং তুলির পরিবারের আধার ঘরে মানিক, মাধ্যমিকে ৫৮১ পেয়ে দেখাচ্ছে স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন : মহঃবাজারের প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ এক ছবি আঁকার মাস্টার মশাইয়ের ছেলে মাধ্যমিকে ৫৮১ পেয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছে পরিবারকে। কিন্তু সেই স্বপ্নে বাধা একটাই অর্থ। আঁকার মাষ্টার মশাই এ গ্রামে, ও গ্রামে ছবি আঁকা শেখালে কেউ মাইনে দেয়, কেউ দিতে পারে না। কেউ বা বেতনের বদলে জমির কুমড়ো আলু দিয়ে আঁকার মাস্টারের মন ভরায়। তাই ছবি আঁকার মাস্টার মশাই-এর অভাব নিত্য সঙ্গী।

কিন্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ জনের বুক ফাটে তবুও মুখ ফোটে না। তাই কোনদিন অভাবের কথা কাউকে জানাতে চায় না ছবি আঁকার মাস্টার মশাই অর্নব ব্যানার্জী। সাইকেল নিয়ে ঝোলা কাঁধে সকাল হলেই রওনা দেন এ গ্রামে, ও গ্রামে। তা থেকে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে তিন ছেলে ও স্বামী স্ত্রী কোনক্রমে চলে। কিন্তু ছেলেদের পড়াশুনা, প্রাইভেট টিউশন, খাতা বই এত কিছু যোগান দেওয়া সত্যিই অসম্ভব।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

সেই পরিবারের কনিষ্ঠ পুত্র করণ ব্যানার্জী এবছর মহঃবাজার ডাঃ সুধাকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকে মোট ৫৮১ নাম্বার পেয়ে নজির গড়েছে। শতকরা হিসাবে তার প্রাপ্ত নম্বর ৮৩%। কিন্তু এই অভাবী পরিবারের উচ্চ ক্লাসে পড়ানো এখন সবচেয়ে বড় অন্তরায় আর্থিক যোগান। কারন উচু ক্লাসে বই কেনা, প্রাইভেট টিউশন বেতন দেওয়া সত্যিই দুষ্কর। তাই কি করে পড়া চালিয়ে নিয়ে যাবে তা ভেবে উঠতে পারছে না পরিবার।

পরিবারের বড় ছেলে ছিল একমাত্র রোজগেরে সুরজ ব্যানার্জী ফিলিপ কার্টের ডেলিভারি বয়ের কাজ করে পরিবারকে অনেকখানি সাহায্য করত। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর পথ দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। ফলে এখন পরিবারের অভাব নিত্য সঙ্গী। এই অবস্থায় উচু ক্লাসে পড়া অনিশ্চিত হয়ে পরেছে করণ ব্যানার্জী। ওর মেজ দাদা কিরন ব্যানার্জীও অভাবের সংসারে নিজে টিউশন পড়িয়ে এখন কলেজে পড়ে। টাকার অভাবে অনার্স পরতে পারে নায়। তবে তার বক্তব্য ভাই আর ভালো ফল করতে পারতো যদি ও আরও স্বচ্ছল ভাবে পরতে পারতো।

করণ তার এই সাফল্যের জন্য গ্রামের দুই গৃহ শিক্ষক সুশান্ত অধিকারী এবং ভেঙ্কট মন্ডল মহাশয়কে কৃতিত্ব দিয়েছেন। কারন তাঁরা বিনা পয়সায় কয়েকটি সাবজেক্ট দেখিয়ে দিতেন। স্কুলের একাধিক শিক্ষকের প্রতিও যথেষ্ঠ অবদান স্বীকার করেছে করণ। তাঁরা বই, নোট দিয়ে সাহায্য করেছে। স্কুলের সহ শিক্ষক শুভঙ্কর দত্ত বলেন, “আমরা ও পড়াশুনা ইচ্ছা দেখে ওকে বই পত্র জোগাড় করে দিয়ে সাহায্য করেছি। কিন্ত ও বা ওর পরিবার কোন দিন কারও কাছে সাহায্য চায় নি। ওর এই ফলাফলে আমরা উচ্ছ্বসিত।”

একদা বীরভূমের বিখ্যাত শিল্পী চিত্রকর পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাতি করণ বড় হয়ে মাস্টার হতে চায়। তাই ও অনেক বড় হবার স্বপ্ন নিয়ে পড়তে চায়। তবে করণের বাবা অর্নব বাবুর বক্তব্য, করণ আমার ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো। ওর ফলাফলের জন্য আমাদের কোন যোগদান নেই। স্কুল ও মাস্টার মশাইদের কৃতিত্বেও আজ ও এই জায়গায়। তবে উচু ক্লাসে আর পড়াতে পারব কিনা জানি না!

স্বপ্ন প্রফেসর হওয়ার : বীরভূমের দ্বিতীয় ও রাজ্যের নবম স্থানাধিকারী সৌকর্যর

লাল্টু : “বাড়ির টিভি খারাপ, মোবাইলে বসে বসেই বাড়ির সকলে মাধ্যমিকের রেজাল্ট দেখছিলেন। কিন্তু তাতে নেট স্লো চলায় ঠিকঠাক দেখা যাচ্ছিল না। তখন নিচের তলায় অন্যের বাড়িতে রেজাল্ট দেখতে চোখ রাখেন বাবা মা। আর তারপরেই ছুটতে ছুটতে বাবা এসে কেঁদে জড়িয়ে ধরে বলেন নবম হয়েছি রাজ্যে।”

ব্যাস, শোনা মাত্রই আর আনন্দ কোথায় থাকে! যদিও সৌকর্য আজ রেজাল্টের ভয়ে বিছানাতে শুয়েই ছিল। কিন্তু সেই ভয় কোথায় যেন ছুটে পালালো জীবনের প্রথম পরীক্ষায় বড় সাফল্যে।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

মাধ্যমিকে সে এবার ৬৮২ নাম্বার পেয়ে রাজ্যে নবম স্থান অধিকার করেছে। জেলায় রয়েছে দ্বিতীয় স্থান। বাংলায় ৯৩, ইংরেজিতে ৯৮, গণিতে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৮, জীবন বিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৭, ভূগোলে ৯৯ এই রয়েছে তার বিষয় ভিত্তিক নাম্বার। সে বীরভূমের বিকেটিপিপি প্রবীর সেনগুপ্ত উচ্চ হাইস্কুলের ছাত্র। বক্রেশ্বর টাউনশিপেরই সে বাসিন্দা। বাবা চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস।

জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বড় সাফল্যের পর সৌকর্য জানাই, বড় হয়ে প্রোফেসর হওয়ার কথা। এবার মাধ্যমিকে পড়াশোনার জন্য পেয়ে দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা ব্যবহার করতো। পড়াশোনা ছাড়াও তার রয়েছে ছবি আঁকা এবং বাঁশি বাজানোর সখ। তাই বেশি পড়াশুনা করে এসবের প্রতিও সে সময় দিতো। তার এমন সাফল্যের জন্য সে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং বাবা মাকে কৃত্বিত্ব দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ৮৮ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ। এবার পাসের হার ৮৬.০৭ শতাংশ৷ পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুর প্রথম (৯৬.১০%), কলকাতা দ্বিতীয় (৯২.১৩%), পশ্চিম মেদিনীপুর তৃতীয় ৯১.৭৮%।

IAS অফিসার হতে চায় মাধ্যমিকে দশম স্থানাধিকারী সিউড়ির অরিত্র

হিমাদ্রি মণ্ডল : সকাল ৯ টায় মাধ্যমিকের রেজাল্ট যখন টিভির পর্দায় ঘটনা হচ্ছে বাড়ির সকলেই চোখ তাকিয়ে ছেলের স্থান অধিকারের আশায়। কিন্তু একের পর এক তালিকা প্রকাশ হলেও ছেলের নাম দেখতে না পেয়ে যখন আশা ছেড়েই দিয়েছেন মা, ঠিক তখনই ১০ নাম্বার তালিকায় উঠে এলো অরিত্র মহারার নাম।

সিউড়ি নেতাজি বিদ্যাভবন থেকে পরীক্ষা দিয়ে এবার অরিত্র মাহারা রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছে, জেলায় তৃতীয়। এই স্থান অধিকার করে অরিত্র একসাথে দুটি স্কুলের নাম উজ্জ্বল করল। কেন! এখানেই বিস্ময়কর।

সিউড়ির শুড়িপুকুর পাড়ার বাসিন্দা অরিত্র প্রথম থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে ছিল সিউড়ির পাইকপাড়ার সরস্বতী শিশু মন্দিরে। কিন্তু ওই স্কুলের এবছর প্রথম মাধ্যমিক ব্যাচ কোনো কারণবশত রেজিস্টেশনে সমস্যার সম্মুখীন হয়। তারপর সে মাধ্যমিকে বসে সিউড়ির নেতাজি বিদ্যাভবন স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে। তাই তারা আজ এই সাফল্যে একইসাথে গর্বিত সিউড়ির দুটি স্কুল। আর বলাই বাহুল্য, সিউড়ির পাইক পাড়ার ওই সরস্বতী শিশু মন্দির প্রথম বছরেই ধামাকা দিল।

অরিত্রর বাবা বিমল মাহারা একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, মা চৈতি মাহারা গৃহবধূ। ছেলের এমন সাফল্যে বাড়ির সকলেরই যেমন আনন্দ চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে ঠিক তেমনি তার স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারাও সমানভাবে আনন্দিত।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বড় সাফল্য পাওয়ার পর অরিত্র জানাই সে ভবিষ্যতে আইএএস অফিসার হতে চাই। আর তার এই ইচ্ছাই সমান ভাবে সমর্থন রয়েছে বাড়ি অভিভাবক এবং স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

পরীক্ষায় এই বড় সাফল্যের পর অরিত্র জানাই, পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় তার ছিল না। যেদিন যেমন, কখনো তিন ঘন্টা, কখনো ১০ ঘন্টা করে পড়াশোনা করত। তবে তার পড়াশোনার সময় বাবা-মা অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে সে কথা তার মুখ থেকেই শোনা যায়। এমন বড় সাফল্যের জন্য অরিত্র যেমন বাবা মায়ের কৃতিত্বকে স্বীকার করেছে, ঠিক তেমনই কৃতিত্ব দিয়েছেন নতুন ও পুরাতন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

প্রসঙ্গত, এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ৮৮ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ। এবার পাসের হার ৮৬.০৭ শতাংশ৷ পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুর প্রথম (৯৬.১০%), কলকাতা দ্বিতীয় (৯২.১৩%), পশ্চিম মেদিনীপুর তৃতীয় ৯১.৭৮%।

মাধ্যমিকে বীরভূমে প্রথম ও রাজ্যের ষষ্ঠ স্থানাধিকারী প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদন : সকাল ৯টায় পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রকাশ করলেন ২০১৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। পর্ষদের তরফ থেকে ফল ঘোষণার সাথে সাথে আনন্দে ভরে ওঠে বীরভূমের রামপুরহাট হাইস্কুল। কারণ এই স্কুলই এবার মাধ্যমিকে জেলায় প্রথম স্থান দখল করেছে, রাজ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে শ্রাবর্ণ চট্টোপাধ্যায় জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ৮৮ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ। এবার পাসের হার ৮৬.০৭ শতাংশ৷ পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুর প্রথম (৯৬.১০%), কলকাতা দ্বিতীয় (৯২.১৩%), পশ্চিম মেদিনীপুর তৃতীয় ৯১.৭৮%।

মেধা তালিকায় প্রথম দশে স্থান পেল বীরভূমের তিনজন। শ্রাবর্ণ চট্টোপাধ্যায় (৬৮৫) ষষ্ঠ (রামপুরহাট হাইস্কুল), সৌকর্য বিশ্বাস (নবম) (বিকেটিপি) ৬৮২, অরিত্র বহড়া ৬৮১ (দশম) সিউড়ি নেতাজি স্কুল।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

বাড়ি বীরভূমের রামপুরহাটের নিশ্চিন্তপুরের দীঘির পাড়ে। মায়ের নাম শ্রাবনী চ্যাটার্জী। মা রামপুরহাট হাইস্কুলেরই শিক্ষিকা।

মাধ্যমিকে এবছর ষষ্ঠ স্থান অধিকার করার কথা জানতে পেরেই শ্রাবর্ণ জানায়, “খুবই উৎসাহিত এবং আনন্দিত। বিশ্বাস করতে পারছিনা এরকম রেজাল্ট হবে। ভেবেছিলাম ভালো ফল হবে, তবে এতটা ভাবেনি।”

এত ভাল ফলাফলের শ্রাবর্ণ সম্পূর্ণ অবদান দিয়েছেন তার মাকে। এছাড়াও রয়েছে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কৃতিত্ব বলে জানায় শ্রাবর্ণ।

শ্রাবর্ণর প্রথম জীবনের পড়াশোনা শুরু হয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। পরবর্তীকালে সে সেখান থেকে ট্রান্সফার নিয়ে ভর্তি রামপুরহাট হাইস্কুলে। তারপরেই জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় এত বড় সাফল্য পেল সে।

Madhyamik Result 2019 : প্রথম দশে বীরভূমের তিন

নিজস্ব প্রতিবেদন : ঘড়িতে সকাল ৯টা। পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রকাশ করলেন ২০১৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। পর্ষদের তরফ থেকে জানানো হয় আজই পরীক্ষার্থীরা তাদের মার্কশিট ও শংসাপত্র পেয়ে যাবে। এছাড়াও এসএমএস ও ইন্টারনেটেও জানতে পারবে ফলাফল।

এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ৮৮ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ। এবার পাসের হার ৮৬.০৭ শতাংশ৷ পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুর প্রথম (৯৬.১০%), কলকাতা দ্বিতীয় (৯২.১৩%), পশ্চিম মেদিনীপুর তৃতীয় ৯১.৭৮%।

মেধা তালিকায় প্রথম দশে স্থান পেল বীরভূমের তিনজন। শ্রাবর্ন চট্টোপাধ্যায় (৬৮৫) ষষ্ঠ (রামপুরহাট হাইস্কুল), সৌকর্য বিশ্বাস (নবম) (বিকেটিপি) ৬৮২, অরিত্র মাহারা ৬৮১ (দশম) সিউড়ি নেতাজি বিদ্যাভবন।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

মেধা তালিকা –
প্রথম – সৌগত দাস (পূর্ব মেদিনীপুর)

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে – ২ জন। শ্রেয়সী পাল (ফলাকাটা), দেবস্মিতা সাহা (কোচবিহার)

তৃতীয় স্থানে – ২ জন। ক্যামেলিয়া রায় (রায়গঞ্জ), ব্রতীন মন্ডল (নদীয়া)।

আজ সকাল ১০ টায় মার্কশিট ও অন্যান্য শংসাপত্র বিতরণ করা হবে। ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শংসাপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ওয়েবসাইট wbbse.org-এ ফল জানা যাবে।

এছাড়া examresults.net, exametc.com , examresults.net, exametc.com, indiaresult.com, result.shiksha , schools9.com, vidyavision.com, jagaranjosh.com, newsnation.com -এর মত সাইটগুলো থেকেও ফলাফল জানতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা।শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পর্ষদ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও মাধ্যমিক ফলাফল প্রকাশ করবে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘মাধ্যমিক ফলাফল ২০১৯’ গুগল প্লেস্টোরে ডাউনলোড করতে পারেন ছাত্রছাত্রীরা।

এসএমএস-এর মাধ্যমেও ফলাফল জানার সুবিধা রয়েছে। সেক্ষেত্রে WB লিখে একটা স্পেস দিয়ে রোল নম্বরটা লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ৫৬২৬৩, ৫৮৮৮৮ অথবা ৫৪২৪২ নম্বরে।

এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। পিটিআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উপস্থিতির নিরিখে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে পর্ষদ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল জুন মাসে প্রকাশ করে। ২০১৮ সালে উত্তীর্ণের মোট হার ছিল ৮৫.৪৯%। মেয়েদের পাসের হার ছেলেদের চেয়ে কম ছিল।

Madhyamik Result 2019 : সরাসরি চোখ রাখুন ফলাফলের দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদন : ঘড়িতে সকাল ৯টা। পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রকাশ করলেন ২০১৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। পর্ষদের তরফ থেকে জানানো হয় আজই পরীক্ষার্থীরা তাদের মার্কশিট ও শংসাপত্র পেয়ে যাবে। এছাড়াও এসএমএস ও ইন্টারনেটেও জানতে পারবে ফলাফল।

এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ৮৮ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ। এবার পাসের হার ৮৬.০৭ শতাংশ৷ পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুর প্রথম (৯৬.১০%), কলকাতা দ্বিতীয় (৯২.১৩%), পশ্চিম মেদিনীপুর তৃতীয় ৯১.৭৮%।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

মেধা তালিকা –
প্রথম – সৌগত দাস (পূর্ব মেদিনীপুর)

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে – ২ জন। শ্রেয়সী পাল (ফলাকাটা), দেবস্মিতা সাহা (কোচবিহার)

তৃতীয় স্থানে – ২ জন। ক্যামেলিয়া রায় (রায়গঞ্জ), ব্রতীন মন্ডল (নদীয়া)।

বীরভূমে মাধ্যমিক পরিক্ষায় প্রথম দশে – শ্রাবর্ণ চট্টোপাধ্যায় (৬৮৫) ষষ্ঠ (রামপুরহাট হাইস্কুল), সৌকর্য বিশ্বাস (নবম) (বিকেটিপি) ৬৮২, অরিত্র বহড়া ৬৮১ (দশম) সিউড়ি নেতাজি স্কুল।

আজ সকাল ১০ টায় মার্কশিট ও অন্যান্য শংসাপত্র বিতরণ করা হবে। ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শংসাপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ওয়েবসাইট wbbse.org-এ ফল জানা যাবে।

এছাড়া examresults.net, exametc.com , examresults.net, exametc.com, indiaresult.com, result.shiksha , schools9.com, vidyavision.com, jagaranjosh.com, newsnation.com -এর মত সাইটগুলো থেকেও ফলাফল জানতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা।শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পর্ষদ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও মাধ্যমিক ফলাফল প্রকাশ করবে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘মাধ্যমিক ফলাফল ২০১৯’ গুগল প্লেস্টোরে ডাউনলোড করতে পারেন ছাত্রছাত্রীরা।

এসএমএস-এর মাধ্যমেও ফলাফল জানার সুবিধা রয়েছে। সেক্ষেত্রে WB লিখে একটা স্পেস দিয়ে রোল নম্বরটা লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ৫৬২৬৩, ৫৮৮৮৮ অথবা ৫৪২৪২ নম্বরে।

এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। পিটিআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উপস্থিতির নিরিখে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে পর্ষদ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল জুন মাসে প্রকাশ করে। ২০১৮ সালে উত্তীর্ণের মোট হার ছিল ৮৫.৪৯%। মেয়েদের পাসের হার ছেলেদের চেয়ে কম ছিল।

রাত পোহালেই মাধ্যমিকের ফল, কীভাবে জানবেন রেজাল্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন : আগামীকাল প্রকাশিত হবে স্কুল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার ফলাফল। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ২১ শে মে ২০১৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮৮ দিন পর বার হতে চলেছে মাধ্যমিকের ফলাফল। মঙ্গলবার বেলা ১০টা থেকেই ফলাফল জানতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। এজন্য প্রধান ভরসা অবশ্যই ইন্টারনেট অথবা এসএমএস।

মাধ্যমিকের ফলাফল প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে সকাল ৯ টায় ঘোষণা করা হবে এবং এরপর বেলা ১০ টা নাগাদ ফলাফল পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। ফলাফল ঘোষণার পর পর্ষদ (WBBSE) নির্ধারিত ক্যাম্প অফিস থেকে একই দিনে সকাল ১০ টায় মার্কশিট ও অন্যান্য শংসাপত্র বিতরণ করবে। ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শংসাপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ওয়েবসাইট wbbse.org-এ ফল জানা যাবে।

এছাড়া

  • examresults.net
  • exametc.com
  • examresults.net
  • exametc.com
  • indiaresult.com
  • result.shiksha
  • schools9.com
  • vidyavision.com
  • jagaranjosh.com
  • newsnation.com

এর মত সাইটগুলো থেকেও ফলাফল জানতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পর্ষদ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও মাধ্যমিক ফলাফল প্রকাশ করবে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘মাধ্যমিক ফলাফল ২০১৯’ গুগল প্লেস্টোরে ডাউনলোড করতে পারেন ছাত্রছাত্রীরা।

ডাউনলোড মোবাইল অ্যাপ👉 BanglaXp

এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানার সুবিধা রয়েছে। সেক্ষেত্রে WB লিখে একটা স্পেস দিয়ে রোল নম্বরটা দিয়ে পাঠিয়ে দিতে হবে ৫৬২৬৩ অথবা ৫৪২৪২ নম্বরে।

এখন শুধু রাত পার হওয়ার জন্য দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা। তারপরই পরিষ্কার হয়ে যাবে মাধ্যমিকে কে কি ফল করলো। এছাড়াও আপনার মোবাইল নম্বরটি প্রি রেজিস্টার করতে পারেন, এতে রেজাল্ট বেরনো মাত্রই এসএমএস পৌঁছে যাবে আপনার কাছে।

তার জন্য www.exametc.com -এ মোবাইল নম্বর এবং রোল নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করুন।

এই বছর মোট ১০,৬৬,০০০ শিক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৬৪,৯৮০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। পিটিআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উপস্থিতির নিরিখে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে পর্ষদ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল জুন মাসে প্রকাশ করে। ২০১৮ সালে উত্তীর্ণের মোট হার ছিল ৮৫.৪৯%। মেয়েদের পাসের হার ছেলেদের চেয়ে কম ছিল।

অবশেষে বাংলায় লাগু ৩২৪ ধারা! কি রয়েছে ৩২৪ ধারায়!

নিজস্ব প্রতিবেদন : মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড শো ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদ্যাসাগর কলেজ চত্বরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অমিত শাহকে কালো পতাকা দেখানো ঘিরে এক দফা উত্তেজনা হয়। তারপর বিদ্যাসাগর কলেজে কার্যত রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রোড শো শেষে দেখা যায়, বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতরে থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া বাইক এবং সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ভিডিয়োও সংবাদ মাধ্যমে দেখা গিয়েছে।

কারা মূর্তি ভাঙ্গলো, তাই নিয়ে চলছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। তৃণমূলের অভিযোগ, আমিত শাহের রোড শো কলেজে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি সমর্থকরা। বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, নিজেরাই মূর্তি ভেঙে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে তৃণমূল।

মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে যখন রাজনৈতিক চাপান উতোর চরমে তখন কমিশনও ভোটের প্রচারের দিনক্ষনের সময়সীমায় কাটছাঁট শুরু করে দেয়। শুধু তাই নয় কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকেও সরিয়ে দেয়। রাজ্যে লাগু হয় সংবিধানের ৩২৪ ধারা। সংবিধানের এই ৩২৪ ধারা আসলে কি! এই ধারার সুবিধাই বা কি! এই ধারা লাগু হওয়াতে কমিশন নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রেই বা কতটা সুবিধা পেয়ে থাকবে?

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ৩২৪ ধারা লাগু হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই অনেকের মনেই এই সকল প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। তা নিয়েই আজকের আলোচ্য বিষয়।

শেষ দফা ভোটে আগে শুধুমাত্র বাংলার জন্য কমিশন লাগু করে এই ৩২৪ ধারা রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির ভিত্তিতে। আর শেষ দফা ভোটের আগে এই সাংবিধানিক ধারা প্রয়োগের ভিত্তিতে পক্ষে ও বিপক্ষে যুযুধান রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে। এই ধারা প্রয়োগে কতটাই বা বিপাকে পড়তে পারে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল? এই ধারা প্রয়োগে কি কোনো আলাদা সুবিধা পাবে কেন্দ্র সরকারের বিজেপি দল অথবা রাজ্যের বিরোধী দলগুলি?

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী বেশ কিছু বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। এই ধারা অনুসারে নির্বাচন কমিশন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যে কোনো রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের জন্য কমিশন নিজেই ঠিক করতে পারে কোন বাহিনীকে নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে, অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনী না রাজ্য সরকারের রাজ্য পুলিশ। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের রাজ্য সরকারের অথবা আইনসভার কোন রকম অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

এমনকি নির্বাচনের দিন এগিয়ে আনা অথবা পিছিয়ে দেওয়া সবটাই স্বাধীনভাবে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ঠিক একইভাবে প্রচারের সময় আগানো অথবা পেছানোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। মূলত এই ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাধীন সত্তা হিসাবে কাজ করে নির্বাচন কমিশন।

এই বিশেষ ধারার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আইন সভার নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে ওঠে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল যেন কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে তার জন্যই এই বিশেষ ধারার প্রয়োগ।

সাংবাদিক বিশেষজ্ঞদের মত অনুসারে, নির্বাচন কমিশন এই ধারার মাধ্যমে নির্বাচনের দিন কোন পুলিশ ব্যবহার হবে তা নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি রাজ্য পুলিশকে ব্রাত্য রেখে কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর দ্বারাই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। এমনকি বিশেষ কোন পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্যপাল অথবা রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধও করতে পারে।

ঘোষণা হল উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টের দিন ; যে সব সাইটে পাওয়া যাবে রেজাল্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন : মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বেরোনোর দিন আগেই ঘোষণা হয়ে গেছে। এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠা দূর করে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল ঘোষণার কথা প্রকাশিত হলো।

আগামী ২৭ শে মে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফ থেকে ঘোষণা করা হবে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল। সেদিন সকাল দশটায় সাংবাদিক বৈঠক করে ফল প্রকাশ করবেন পর্ষদের সভাপতি। তারপর সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে রেজাল্ট।

এ বছর ২৬ শে ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়ে সমাপ্ত হয় ১৩ই মার্চ। পরীক্ষা হওয়ার ৭৪ দিনের মাথায় প্রকাশিত হচ্ছে ফলাফল। সংসদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ওই দিনই নির্দিষ্ট স্কুলে পাওয়া যাবে মার্কশীট। ওয়েবসাইট ছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারা যাবে ফলাফল।

যে সকল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে ফলাফল : http://wbchse.nic.in, www.wbbse.org, www.wb.allresults.nic.in, www.examresults.net

এছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ফলাফল জানতে পারবেন। ফলাফল জানার জন্য টেক্সট মেসেজে WB <রোল নম্বর> লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ৫৪২৪২/ ৫৬২৬৩/৫৮৮৮৮ নম্বরে।

রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস বেঁচে রয়েছে জেনে নিন সহজ উপায়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন : রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস আছে তা সাধারণের সাধারণ ভাবে বোঝা বড়ই মুশকিল। কেউ কেউ মাঝে মধ্যেই সিলিন্ডার ঝাঁকিয়ে দেখেন। কেউ আবার সিলিন্ডার তুলে বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কি বোঝা সম্ভব সঠিক পরিমাপ! সেই সমস্যা সমাধান করলেন মধ্যপ্রদেশের একটি সায়েন্স কলেজের অধ্যাপক বিজেন্দ্র রায়।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস এখনো বেঁচে আছে। সেজন্য দরকার শুধু একটা ভিজে কাপড়। সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে এই সমস্যা চিরদিনের। আগে থেকে বুঝতে না পারায় অনেক সময়েই রান্না করতে করতেই সিলিন্ডারের গ্যাস ফুরিয়ে যায়। বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে ভাল, না থাকলে ভোগান্তি আরও বাড়ে। কিন্তু একটি ভিজে কাপড়ের মাধ্যমে কিভাবে বুঝছেন? চলুন দেখা যাক সেই পদ্ধতি।

মধ্যপ্রদেশের ওই সায়েন্স কলেজের অধ্যাপক বিজেন্দ্র রায় বলেছেন, গ্যাস কতটা আছে তা বোঝার জন্য প্রথমে ভিজে কাপড় দিয়ে সিলিন্ডারটিকে ভাল করে মুছে নিতে হবে। এমন ভাবেই মুছতে হবে যাতে সিলিন্ডারে এটুকু ধূলিকণা না থাকে।

মোছা শেষ হলে সিলিন্ডারকে শুকোতে দিতে হবে কিছুক্ষনের জন্য। শুকনো অবস্থায় দু-তিন মিনিট বাদে খেয়াল করবেন, তাতে দেখতে পাবেন সিলিন্ডারের কিছুটা অংশ তাড়াতাড়ি শুকিয়ে গেলেও বাকি অংশ ধীরে ধীরে শুকাচ্ছে বা অল্প ভিজে রয়েছে। যে অংশ শুকোতে একটু সময় লাগছে সেই অংশেই গ্যাস রয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

মধ্যপ্রদেশের ওই সায়েন্স কলেজের অধ্যাপক বিজেন্দ্র রায়ের এই দাবির পিছনে যে যুক্তি দিয়েছেন, তাহল কোনো কিছুর মধ্যে যেখানে তরল থাকে তার উপরের অংশ শুকাতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে। সুতরাং গ্যাস সিলিন্ডারের মধ্যে যে অংশে গ্যাস মজুত রয়েছে সেই অংশ শুকাতে সময় নিচ্ছে এবং ফাঁকা অংশ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতি নিজেও করে দেখুন।

আন্তর্জাতিক পুরস্কারে পুরস্কৃত বোলপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক

অমরনাথ দত্ত : বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডঃ সুপ্রিয় সাধু পেলেন আন্তর্জাতিক সম্মাননা। সারা ভারত বর্ষ থেকে এই সম্মাননা পেয়েছেন আরও তিন জন এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র তিনিই। এর আগেও তিনি শিক্ষারত্ন পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছিলেন ২০১৮ সালে।

ব্যাংককে আয়োজিত আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উন্নয়ন সমিতির পক্ষ থেকে গত ৫ ই মে সুপ্রিয় বাবুর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই সম্মাননা। বছরের সেরা শিক্ষক হিসাবে তিনি এই সম্মাননা পান। সারা ভারতবর্ষে মাত্র চারজন এবং পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র তিনি এই সম্মাননা পেয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন নামে একটি স্ব-শাসিত সংস্থা যারা শিক্ষা গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা স্বরূপ এমন সম্মাননা দিয়ে থাকে। এই সংস্থার তরফেই বছরের সেরা শিক্ষক হিসাবে বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডঃ সুপ্রিয় সাধুকে পুরস্কার তুলে দেন। রাজস্থানের বেদান্ত কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ও ব্যাংককের ক্যাসেসশার্ট ইউনিভার্সিটির সাথে যৌথভাবে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর বোলপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডঃ সুপ্রিয় সাধু মহাশয় জানান, “এই কৃতিত্ব শুধু আমার নয়, গোটা বিদ্যালয়ের পারফরমেন্সের জন্যই আজ এই সম্মাননা। আরো ভালো করে বলতে হলে বলতে হয়, টিম বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি। যে টিমে রয়েছে, বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষা কর্মী, অশিক্ষা কর্মী এবং পড়ুয়াদের নিরলস প্রচেষ্টা। এছাড়াও রয়েছেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতি। কৃতিত্ব রয়েছে প্রাক্তন পড়ুয়াদের। আমাদের বিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যকলাপের স্বীকৃতি হলো এই পুরস্কার।”

‘ছুটি নয়, পড়াতে চাই, পড়তে চাই’ বিক্ষোভে শিক্ষক সংগঠন

নিজস্ব প্রতিবেদন : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী প্রায় দু মাস স্কুল ছুটি, তার প্রতিবাদে পথে নামলো মালদা নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি।

মালদা নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির মালদা শাখা তরফে বুধবার একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। শিক্ষক সংগঠনের মিছিলের মূল স্লোগান হলো, ‘ছুটি নয়, পড়াতে চাই, পড়তে চাই।’

গতকাল এই শ্লোগানকে সামনে রেখেই সংগঠনের পক্ষ থেকে মালদা ইংরেজ বাজার শহর মিছিল বের হয়। অতুল মার্কেটে অবস্থিত শিক্ষাভবনে সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পর ডি.আই-এর হাতে একটি ডেপুটেশনও তুলে দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন দাস জানান, “রাজ্য সরকার অপ্রয়োজনীয় দুমাস স্কুল ছুটির ঘোষণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে নেমেছি। সরকারি এই নির্দেশিকা যাতে প্রত্যাখ্যান করা হোক। তার জন্য আজকে ডি.আই-এর হাতে একটি দাবি সনদ তুলে দিয়েছেন। এই দুই মাস স্কুল ছুটির ফলে পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে। তাই আমাদের এই আন্দোলন পথে নামতে হয়েছে।”

এছাড়াও শিক্ষক মহলের দাবি, দু মাসের এই অযৌক্তিক ছুটিতে স্কুলের সমস্ত কাজ থমকে গিয়েছে। পড়ুয়াদের পরীক্ষা নেওয়ার কাজ বন্ধ। দু মাসের ছুটির কারণে কোন মতেই সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে আবার মাধ্যমিক ফলাফলের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোনোর পর ছাত্রছাত্রীরা উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হবে কিন্তু ছুটির কারণে তাদের ভর্তি আটকে থাকবে। যারা ইলেভেন বা টুয়েলভে উঠবে তাদেরও ক্লাস করা সম্ভব হবে না ছুটির কারনে। পিছিয়ে পড়বে সব ছাত্র-ছাত্রীরা।

অজয় নদের তীরে এক যুবকের দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য

লাল্টু : দুবরাজপুরের লোবা গ্রামের কাছে অজয় নদের তীরে এক বাঁশ ঝোঁপ থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই যুবকের মৃতদেহ দেখতে পান। ঘটনার পর পুলিশে খবর দেওয়া হলে দুবরাজপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

মৃত ওই যুবকের নাম উৎপল রুইদাস, বয়স ২৫ বছর। মৃত ওই যুবক লোবা গ্রামের বাসিন্দা। মৃত ওই যুবকের পরিবারের সন্দেহ মৃত্যুর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ। সন্দেহ, হয়তো ওই যুবককে মেরে ফেলা হয়েছে, কারণ যুবকের হাতে পায়ে রয়েছে সন্দেহজনক দাগ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিন ধরে নিখোঁজ ছিল উৎপল। বারবার ফোনে এবং খোঁজাখুঁজির পরও যখন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি তখন দুবরাজপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডাইরিও করা হয়। দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ করে রহস্যজনকভাবে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এমনকি যে জায়গায় দেহ মিলেছে, সেখানেও তারা আগে খোঁজাখুঁজি করেছিলেন। কিন্তু তখন তারা সেখানে কোনো দেহ দেখতে পাননি।

পরিবার সূত্রে এও জানা গিয়েছে যে, ওই যুবকের সাথে পার্শ্ববর্তী গ্রাম বড়ারির এক মহিলার সাথে বছরখানেক ধরে তার সম্পর্ক ছিল। সেই তাকে ফোন করে ডাকে এবং তারপর থেকেই রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায় উৎপল।

পরিবারের দাবি, পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করুক এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুক। যদিও এই মৃত্যুর ঘটনার পিছনে কি কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে দুবরাজপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে তারা পাঠিয়ে দেয় সিউড়ি সুপার স্পেশালিটিতে ময়না তদন্তের জন্য।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জীবন পাল্টানো কিছু বিশ্ব বিখ্যাত উক্তি

অমরনাথ দত্ত : ২৫ শে বৈশাখ, আমাদের সবার প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে আজকের দিনে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। জন্মস্থান কলকাতা হলেও, তাঁর কর্মস্থান এই লাল মাটির দেশ বীরভূম। মনুষ্য রূপে জন্ম গ্রহণ করেও তাঁর সমাজ, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অবদান যেন তাঁর অতিলৌকিক ক্ষমতাকেই আমাদের সামনে তুলে ধরে। তিনি তাঁর মনের কথা অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে গিয়েছেন তাঁর লেখা কাব্য গ্রন্থ থেকে শুরু করে তাঁর সকল রচনার মধ্যে। তিনি নতুন দৃষ্টিতে প্রকৃতির সঙ্গে মানবের আত্মিক সম্পর্ককে উপস্থাপিত করেছেন তাঁর প্রকৃতি প্রেম বিষয়ক রচনার মাধ্যমে।

মানুষের মনকে অতি সহজেই বুঝতে পারতেন তিনি। তাই তাঁর লেখনীতে পাওয়া যায় নারী পুরুষ সবার অন্তর দ্বন্দের কথা। তিনি ছিলেন মনস্তত্ত্ববিদ। তাঁর রচনা আমাদের বাঁচার নতুন প্রেরণা দেয়। তাঁর গান, তাঁর নৃত্য সকলের মনে এক নতুনত্বের ধারা সঞ্চার করে। সৃষ্টিকে ও স্রষ্টাকে যে ভালোবাসার বন্ধনে একাকীত্ব করেছেন তিনি। মানব হৃদয় ও মস্তিষ্ক যে বদ্ধ প্রাচীরের মধ্যে থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে না তা তাঁর বিশ্বভারতী সৃষ্টির মাধ্যমে জগতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাই আধুনিক শিক্ষার প্রবর্তক। তিনি তাই একজন মহান দার্শনিক। তিনিই ছিলেন প্রথম ভারতীয় হিসাবে নোবেলজয়ী। তিনি তাঁর দর্শনের মাধ্যমে আমাদের দিয়ে গিয়েছেন অমূল্য কিছু উক্তি।

  • “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে”
  • “আনন্দকে ভাগ করলে দুটি জিনিস পাওয়া যায়, একটি হচ্ছে জ্ঞান ও অপরটি হচ্ছে প্রেম।”
  • “মন দিয়ে মন বোঝা যায় ,
    গভীর বিশ্বাস শুধু , নীরব প্রেমের কথা টেনে নিয়ে আসে।”
  • “আগুনকে যে ভয় পাই,
    সে আগুনকে ব্যবহার করতে পারে না।”
  • “মনুষ্যত্বর শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা, আর সমস্তটাই তার অধীন”
  • “নিজের অজ্ঞতার সম্বন্ধে অজ্ঞনতার মতো, অজ্ঞান আর কিছু নেই।”
  • “গোলাপ যেমন একটি বিশেষ জাতের ফুল , বন্ধু তেমনই একটি বিশেষ জাতের মানুষ।”
  • “এরা সুখের লাগি ,চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না,
    শুধু সুখ চলে যায়”
  • “মানুষ পণ করে,
    পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া,
    হাঁফ ছাড়িবার জন্য।”
  • “যে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত করে, ঈশ্বরের অর্ঘ্য হতে, সে হয় বঞ্চিত।”
  • “ভয়ের তাড়া খেলেই,
    ধর্মের মূঢ়তার পিছনে,
    মানুষ লুকাতে চেষ্টা করে।”
  • “সংসারে সাধু-অসাধুর মধ্যে, প্রভেদ এই যে সাধুরা কপট, আর অসাধুরা অকপট।”
  • “ক্ষমাই যদি করতে না পারো, তবে তাকে ভালোবাসো কেন?”
  • “সংসারের কোন কাজেই, যে হতভাগার বুদ্ধি খোলে না, সে নিশ্চয়ই ভালো বই লিখিবে।”
  • “আমি তোমাকে অসংখ্য ভাবে ভালোবেসেছি, অসংখ্যবার ভালোবেসেছি
    একজীবনের পর অন্য জীবনেও ভালো বেসেছি,
    বছরের পর বছর সর্বদা, সর্বময়।”
  • “অতীতকাল যত বড়ো কালই হোক নিজের সম্বন্ধে বর্তমান কালের একটা স্পর্ধা থাকা উচিত। মনে থাকা উচিত ,তার মধ্যে জয় করিবার শক্তি আছে।”
  • “চোখ কতটুকুই দেখে,
    কান কতটুকুই শোনে,
    স্পর্শ কতটুকুই বোধ করে।
    কিন্তু মন এই আপন ক্ষুদ্রতাকে, কেবলই ছড়িয়ে যাচ্ছে।”
  • “ধর্ম যারা সম্পূর্ণ উপলব্ধি না করিয়া প্রচার করিতে চেষ্টা করে, তাহারা ক্রমশই ধর্মকে জীবন হইতে দূরে ঠেলিতে থাকে। ইহারা ধর্মকে এক বিশেষ গন্ডি আঁকিয়া, একটা বিশেষ সীমানার মধ্যে আবদ্ধ করে।”
  • “পাপকে ঠেকাবার জন্য কিছু না করাই তো পাপ।”
  • “নিন্দা করতে গেলে বাইরে থেকেই করা যায়, কিন্তু বিচার করতে গেলে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়।”
  • “লোকে ভুলে যায়, দাম্পত্যটা একটা আর্ট, প্রতিদিন ওকে নতুন করে সৃষ্টি করা চাই।”
  • “সামনে একটা পাথর পড়লে, যে লোক ঘুরে না গিয়ে সেটা ডিঙিয়ে পথ সংক্ষেপ করতে চাই, বিলম্ব তারই অদৃষ্টে আছে।”
  • “সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।”
  • “যে পুরুষ অসংশয়ে অকুণ্ঠিতভাবে, নিজেকে প্রচার করিতে পারে।
    সেই সমস্ত পুরুষ সহজেই ,
    নারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারে।”
  • “তোমার পতাকা যারে দাও ,
    তার বহিবারে দাও শক্তি।”
  • “অধিকার ছাড়িয়া দিয়া ,
    অধিকার ধরিয়া রাখিবার মতো বিড়ম্বনা
    আর হয় না।”
  • “সোহাগের সঙ্গে রাগ না মিশিলে, ভালোবাসার স্বাদ থাকে না- তরকারিতে লঙ্কা মরিচের মতো।”
  • “শিমুল কাঠই হোক,
    আর বকুল কাঠই হোক
    আগুনের চেহারাটা একই।”
  • “আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্যও চাই, সেই জন্যই বন্ধুকে চাই।”
  • “ভালোবাসা কথাটা বিবাহ কথার চেয়ে , আরও বেশি জ্যান্ত।”
  • “পৃথিবীর সবচাইতে বড় দূরত্ব কোনটা জানো? নাহ, জীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত উত্তরটা সঠিক নয়। সব চাইতে বড় দূরত্ব হলো আমি তোমার সামনে থাকি, কিন্তু তুমি জানো না যে, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।”
  • “স্বামীরা প্রেমিক হতে অবশ্যই রাজি, তবে সেটা নিজের স্ত্রীর সাথে নয় নিজের স্ত্রীর প্রেমিক হবার বিষয়টা, তারা ভাবতেই চাই না।”
  • “প্রেমের আনন্দ থাকে অল্পক্ষণ, কিন্তু বেদনা থাকে সারাটি জীবন।”
  • “সাধারণত স্ত্রী জাতি কাঁচা আমি, ঝাল লঙ্কা এবং কড়া স্বামীই ভালোবাসে।
  • যে দুর্ভাগা পুরুষ নিজের স্ত্রীর ভালোবাসা হতে বঞ্চিত হয়,সে কুশ্রী অথবা ধনহীন তা নহে,সে নিতান্তই নিরীহ।”
  • “একটা মন আর একটা  মনকে খুজিতেছে, নিজের ভাবনার ভার নামাইয়া দিবার জন্য। নিজের মনের ভাবকে অন্যের মনের ভাবে,
    ভাবিত করার জন্য।”
  • “যে মরিতে জানে,
    সুখের অধিকার তাহারই
    যে জয় করতে জানে,
    ভোগ করা তারই সাজে।”
  • “মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।”
  • “মনে যখন একটা প্রবল আনন্দ একটা বৃহৎ প্রেমের সঞ্চার হয়, তখন মানুষ মনে করে আমি সব পারি।”
  • “পৃথিবীতে বালিকার প্রথম প্রেমের মতো সর্বগ্রাসী প্রেম আর কিছু নাই। প্রথম যৌবনে বালিকা যাহাকে ভালোবাসে তাহার মতো সৌভাগবানও আর কেহই নাই। যদিও সেই প্রেম অধিকাংশ সময় অপ্রকাশিত থেকে যায়।
    কিন্তু সেই প্রেমের আগুন সেই বালিকাকে সারা জীবনই পোড়ায়।”

২৫ শে বৈশাখ, বিশ্ববরেণ্য কবি রবি ঠাকুরের জন্ম জয়ন্তীতে শ্রদ্ধা নিবেদন

অমরনাথ দত্ত : বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্ম জয়ন্তী। প্রতি বছরের মত এবারও তাই বিশ্বভারতীতে এই দিনটি শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হচ্ছে।

ভোরবেলায় গৌরপ্রাঙ্গনে বৈতালিকের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তীর অনুষ্ঠান। উত্তরায়ণে হয় কবিকণ্ঠ। প্রথা অনুযায়ী সকাল ৭টায় উপাসনা গৃহে হয় কবিকন্ঠ। বিশ্বভারতীর উপাচার্য শ্রী বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, ঠাকুর পরিবারের সদস্য তথা প্রবীণ আশ্রমিক সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা ও আশ্রমিকদের উপস্থিতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন রবি ঠাকুরের প্রতি। বৈদিক মন্ত্রপাঠ, ব্রহ্ম উপাসনা, রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু সকাল থেকেই।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন পালন হয় ১৯৩৬ সালে। আগে বর্ষবরণ ও গুরুদেবের জন্মদিন এক সঙ্গে পালিত হত। কারণ প্রচণ্ড দাবদাহ ও জল কষ্টের জন্য বিশ্বভারতীতে ছুটি পড়ে যেত, ২৫ শে বৈশাখ ছুটি থাকত। এখন অবশ্য সেই পরিস্থিতি নেই। তাই ২৫ বৈশাখে আলাদাভাবে গুরুদেবের জন্মদিন পালিত হয়।

বিশ্বভারতীতে প্রথম নববর্ষ পালিত হয় ১৯৩৬ সালের ১৫ এপ্রিল। বাংলায় ১৩৪৩ সাল। ১৯৪১ সালের ১৪ এপ্রিল, তথা বাংলা ১৩৪৮ সালের ১ বৈশাখ বর্ষবরণের দিন কবির জীবদ্দশায় শেষ জন্মদিন পালন হয়।

বিশ্বভারতীতে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির অনলাইনে আবেদন গ্রহণ চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদন : বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে। যে সকল পড়ুয়ারা এই সকল বিভাগে ভর্তির ইচ্ছা প্রকাশ করেন তারা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আজ একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছে। ৮ই মে ২০১৯ থেকে ১০ই জুন ২০১৯ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনকারী পড়ুয়াদের অবশ্যই বিশ্বভারতীর নীতি বিবরণী অনুযায়ী মূল বিধিগুলি মেনে চলতে হবে।

অনলাইনে আবেদনের সাথে সাথে অনলাইন অথবা এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখার চালানের মাধ্যমে বিশ্বভারতীর আবেদন মূল্য জমা দেওয়া যাবে।

নীতি বিবরণীর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অবশ্যই দেখুন বিশ্বভারতীর অফিসিয়াল ওয়েবসাই www.visvabharati.ac.in

অনলাইনে আবেদন করার জন্য ক্লিক করুন – http://vbu.ucanapply.com/entrance

যে সকল বিভাগে ভর্তি জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে – Pre-Degree (Class-XI), Undergraduate, Postgraduate, M.Phil, Ph.D, Certificate, Diploma, and Advanced Diploma Courses etc.

জাতিবিদ্বেষের অভিযোগে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ ; উত্তেজনা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে

বাপি অধিকারি : ঘটনার সূত্রপাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকার জাতিবিদ্বেষকে কেন্দ্র করে। বেশ কয়েকদিন আগে বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা মঞ্জুলা বিরুদ্ধে জাতি বিদ্বেষের অভিযোগ তোলে পড়ুয়ারা। অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবিও করা হয়। কিন্তু পড়ুয়াদের দাবি মানেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপরই আজ উত্তেজনা ছড়ায় ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা মঞ্জুলা বেরার বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে তাঁকে অপসারিত করার দাবি তুলে ওই বিভাগেরই বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী। কিন্তু দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে কোন রকমই ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বাংলা বিভাগের বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী। তারা এই বিষয় নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গেলে উপাচার্য শুধুমাত্র ৪ জনের সঙ্গে দেখা করবে বলে জানানো হয়। কিন্তু বিক্ষোভরত ছাত্র ছাত্রীদের দাবি সকলের সঙ্গে দেখা করতে হবে উপাচার্যকে।

তা নিয়েই শুরু হয় বাদানুবাদ এবং যা চরমে গেলে হাতাহাতিতে পৌঁছায়। এতে মোট তিনজন আহত হয় যার মধ্যে একজন রয়েছে নিরাপত্তাকর্মী, একজন আধিকারিক ও একজন ছাত্র।পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মাটিগাড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। তবে চরম উত্তেজনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে।

কলেজের অধ্যাপক জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পথ থেকে এখনো পর্যন্ত জাতিবিদ্বেষ নিয়ে কোনো রকম ঘটনা ঘটেনি। হয়তো পড়ুয়াদের একাংশ এমনটা ভাবছেন কিন্তু তা সত্য নয়। যদি সত্য হয় তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত আমিও চাই। হয়তো কোন মনোমালিন্য হয়েছে। অভিযোগ দুই পক্ষের তরফ থেকেই রয়েছে। আগামী ১৬ তারিখ এই সকল অভিযোগুলি আমরা ই.সি. মিটিংয়ে তুলে ধরব। সেখানে যা পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেটাই কার্যকরী করা হবে।”

ঘোষণা হল মাধ্যমিকের রেজাল্টের দিন ; যে সব সাইটে পাওয়া যাবে রেজাল্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন : একদিকে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল, অন্যদিকে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। দুই মিলে বেশ উৎকণ্ঠা রাজ্যবাসীদের মধ্যে। আর এই উৎকণ্ঠার মাঝেই ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক দুদিন আগেই মাধ্যমিকের ফলাফল ঘোষণার কথা প্রকাশিত হলো।

আগামী ২১ শে মে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফ থেকে ঘোষণা করা হবে মাধ্যমিকের ফলাফল। সেদিন সকাল ন’টায় সাংবাদিক বৈঠক করে ফল প্রকাশ করবেন পর্ষদের সভাপতি। তারপর সকাল ১০ টা থেকে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে রেজাল্ট।

এ বছর ১১ ই ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়ে সমাপ্ত হয় ২২ শে ফেব্রুয়ারীতে। পরীক্ষা হওয়ার ৮৮ দিনের মাথায় প্রকাশিত হচ্ছে ফলাফল। পর্ষদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ওই দিনই নির্দিষ্ট স্কুলে পাওয়া যাবে মার্কশীট। ওয়েবসাইট ছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারা যাবে ফলাফল।

যে সকল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে ফলাফল : wbbse.org, wbresults.nic.in

ওয়েবসাইট ছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে হলে আপনাকে একটি টেক্সট মেসেজ করতে হবে। SMS -এ টাইপ করতে হবে WB10ROLL NUMBER৷ এরপর সেই এসএমএসটি 56263 নাম্বারে পাঠিয়ে দিতে হবে। তারপর আপনার কাছে চলে আসবে রেজাল্ট।

স্কুলে পড়ার জন্য সপ্তাহে শুধুমাত্র ২৫টি প্লাস্টিক দ্রব্য ; এটাই এই স্কুলের ফিজ!

নিজস্ব প্রতিবেদন : স্কুলে পড়াশোনা করার খরচ বলতে একটাই তাহলো বর্জিত প্লাস্টিক দ্রব্য। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য, এমনই এক অভিনব স্কুল রয়েছে আমাদের ভারতবর্ষে। এখানে পড়াশোনা করতে গেলে আলাদা করে কোন রকম খরচ লাগে না। অবশ্য ভারতবর্ষে অজস্র অবৈতনিক স্কুল রয়েছে কিন্তু তাদের মধ্যেও এই স্কুলটি অভিনব। কারণ একটাই, স্কুল অবৈতনিক হলেও স্কুলে পড়াশোনা পড়ার জন্য পড়ুয়াদের সপ্তাহে অন্তত পক্ষে ২৫ টি প্লাস্টিক দ্রব্য জমা দিতে হয়।

অভিনব এই স্কুলটি হল ভারতবর্ষের আসাম রাজ্যে। স্কুলের নাম ‘অক্ষর’। সকালে ক্লাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই স্কুলের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়ায় ছাত্রছাত্রীরা। পড়ুয়াদের পিঠে থাকে স্কুল ব্যাগ আর হাতে পলিথিন ব্যাগ। স্কুলের প্রকৃতিও আর পাঁচটা স্কুলের থেকে আলাদা। বাঁশের ছাদের নিচে খোলামেলা পরিবেশে ক্লাস করেন পড়ুয়ারা। এই স্কুলে বয়স ভিত্তিক কোনরকম ক্লাস বিভাজনের ব্যবস্থাও নেই।

সকলের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে স্কুলে পড়াশোনার জন্য কোন বেতন লাগে না, অথচ কেন ‘ফিজ’ নেওয়া হয় সপ্তাহে অন্তত ২৫ টি প্লাস্টিক দ্রব্য!

এই অভিনব স্কুলের পরিকল্পনা দুইজনের মস্তিষ্কপ্রসূত। যাদের পরিকল্পনাতেই লুকিয়ে রয়েছে স্কুলের গঠন থেকে পড়ুয়াদের ও প্রকৃতির ভবিষ্যৎ। পারমিতা শর্মা এবং মাজিন মুখতার এমন স্কুলের পরিকল্পনা করেন। হঠাৎ করে এমন স্কুলের পরিকল্পনা কেন?

২০১৩ সালে মাজিন নিউইয়র্ক থেকে ভারতে আসেন একটি অন্য স্কুলের প্রজেক্ট নিয়ে। সে সময়ই তার সঙ্গে পরিচিয় হয় পারমিতার। পারমিতা সেসময় টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সে সামাজিক কাজ নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করছেন। তারপর দুজনের মধ্যেই ইচ্ছা হয় শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন কাজ করার।

তারপর দুজনে মিলে আসামের পামোহিতে ‘অক্ষর’ নামের স্কুলের স্বপ্ন দেখলেন। অদম্য ইচ্ছা থেকে দ্রুত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেও ফেললেন। তারপর আর ইনাদের পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। শুধুই উত্তরণের গল্প।

আসামের ওই এলাকায় বেশিরভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন একটা স্কুলের পরিকাঠামো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের হলেও প্রয়োজনটা ছিল তার থেকেও বেশি জরুরি। কারণ এলাকার শিশুরা স্কুলের পথে পা না বাড়িয়ে ছুটে যায় নিকটবর্তী খাদানে কাজ করতে। আর এই স্কুল অক্ষরের সফলতা এখানেই। এলাকার ছোট ছোট শিশুরা অবশেষে দেখছে শিক্ষার আলো।

এইভাবে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের সামনে পড়াশুনোকে তুলে ধরা কাজটা সহজ ছিল না তা সকলেরই অনুমেয়। কারণ তাদের কাছে পড়াশুনোর থেকে পেটের ভাতটা আগে। এই এলাকায় স্কুল চালানোর জন্য জন্য নেওয়া যাবে না কোনো পড়াশোনার খরচ, সেই সঙ্গে দুজনকে ভাবাচ্ছিল এলাকার দূষণ। এলাকার বাসিন্দাদের অধিকাংশই শীতের হাত থেকে বাঁচতে প্লাস্টিকের বর্জ্য পদার্থ পুড়িয়ে উষ্ণতার খোঁজ করে। এরফলে পরিবেশও ভীষন দূষিত হতে থাকে। তাই তারা দুজনে ঠিক করে স্কুলে পড়াশুনার ফিজ হিসাবে প্লাস্টিকের বর্জ্য জোগাড় করার পরিকল্পনা। আর তাতেই মিলেছে সাফল্য। আর পড়াশোনার সাথে সাথেই সেই সকল বর্জ্যপদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় নানান সামগ্রীও বানাতে শিখেছি পড়ুয়ারা।

নিকটবর্তী খাদানে কাজ করে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া যায় দৈনিক হিসাবে। তার সঙ্গে পাল্লা দিতে শুরু হয় স্কুলের পুরাতন পড়ুয়ারা নতুনদের প্লাস্টিক দ্রব্য থেকে নানান জিনিস তৈরি করা শেখাবে। তার বিনিময় তারা পাবে খেলনা টাকার নোট। সেই খেলনা টাকার নোট দিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে পাওয়া যাবে জামাকাপড়, খেলনা, জুতো, তেলেভাজা ইত্যাদি। শুধু তাই নয় পড়ুয়ারা যদি সেই খেলনা টাকা দিয়ে স্কুল থেকে সত্যিকারের টাকাও নিতে পারে। এছাড়াও ওই খেলনা টাকা দিয়ে অ্যামাজন থেকে সমমূল্যের জিনিস কেনাকাটা করতে পারে।

স্কুল শুরু হয়েছিল মাত্র কুড়িটি বাচ্চাকে নিয়ে, যা বর্তমানে সংখ্যা ছাড়িয়েছে একশোর বেশি। চার থেকে ১৫ বিভিন্ন বয়সের পড়ুয়ারা নিয়মিত স্কুলে আসে পড়াশোনা করতে। দুই তরুণ-তরুণীর দেখা স্বপ্ন ধীরে ধীরে ডানা মেলেছে। ধীরে ধীরে ওই দারিদ্র এলাকায় শিক্ষার আলো দেখছে ছোট ছোট শিশুরা। আর এভাবেই চলতে থাকলে আগামী প্রজন্মও একইভাবে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। পারমিতা ও মাজিন দুজনেই বদ্ধপরিকর শিক্ষার আলোকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে।

প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ও গায়ক ; শোকস্তব্ধ টলিউড

নিজস্ব প্রতিবেদন : বর্ষীয়ান অভিনেতা ও গায়ক মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসানে শোকস্তব্ধ টলিউড। আজ ৭ই মে দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এই অভিনেতা। বেশ কয়েকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন। তার উপর সম্প্রতি জন্ডিসের আক্রমণ তাঁকে মারাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। গতকাল তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সত্তরোর্ধ্ব অভিনেতার মৃত্যুতে শোকাহত সমগ্র বাংলা বিনোদন জগৎ।

সত্তর-আশির দশক থেকেই তাঁর গান মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। মূলত গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেই কাজ করেছেন পেশাগত জীবনের প্রথম থেকেই। বড়পর্দা ও ছোটপর্দার পাশাপাশি রেডিও নাটকেও অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। তা ছাড়াও দীর্ঘ সময় বাংলা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে দর্শক দেখেছেন তাঁকে কিন্তু তিনি বেশি জনপ্রিয় ছিলেন খল চরিত্রচিত্রণের জন্য।

প্রয়াত মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের দুই সন্তান, অভিনেতা দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী-গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায় বাংলা বিনোদন জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁর আর এক সন্তান, টিনা মুখোপাধ্যায় মডেলিং দিয়ে শুরু করেছিলেন কেরিয়ার, এখন তিনি ফ্যাশন শো কোরিওগ্রাফার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

মৃণাল মুখোপাধ্যায় অভিনীত সাম্প্রতিক ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের ছবি ‘ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা’। এছাড়াও, বেশ কিছু বাংলা ধারাবাহিকেও কাজ করছিলেন তিনি। অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন টলিউডের বহু শিল্পী। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে ইন্ডাস্ট্রিতে। দর্শকের মনে তিনি রয়ে যাবেন চিরকাল।

চুপিসারে তারাপীঠে পুজো দিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

নিজস্ব প্রতিবেদন : সকলের নজর এড়িয়ে সোমবার ভোরে তারাপীঠে তারা মায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে কোলকাতা ফিরলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। কেউ যাতে তাঁকে চিনতে না পারে সেজন্য চাদরে মুখ ঢেকে মাথায় ছিল টুপি পড়ে মায়ের গর্ভগৃহে ঢোকেন তিনি। এদিন মন্দিরে তাঁর পুজোর পুরোহিত ছিলেন তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “রবিবার গভীর রাতে মিঠুনের বাল্যবন্ধু কলকাতা হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট বিমান সরকার তাঁকে ফোন করে জানান, মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে তারাপীঠ যাচ্ছি। ভোরে পুজো দিয়েই বেরিয়ে আসব। সংবাদ মাধ্যম বা অন্য কাউকে তাঁর আসার বিষয়টি জানাতে তিনি নিষেধ করেন। সেই মতো এদিন ভোর পাঁচটা নাগাদ লাল রঙের সাফারি গাড়ি চড়ে তারাপীঠ আসেন তিনি। পুজো দিয়েই কোলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও, তাঁর বোলপুর যাওয়ার কথা।”

দীর্ঘ অসুস্থতা পর তারা স্মরণে মিঠুন। তবে এখন তিনি রাজনীতি থেকে অনেক দুরে। তবুও ভোট মরসুমে তার তারা মাকে পুজো দিতে আসা নিযে নানা মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

ভারতের গর্ব এ রাজ্যের ‘বৃষ্টি’ ; দাবা প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদন : এ বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত হয় অনূর্ধ্ব ১৬ দাবা প্রতিযোগিতা। চলে এপ্রিলের মাঝ বরাবর। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এশিয়া মহাদেশের ২৩ টি দেশের ৫৫০ জনের বেশি প্রতিযোগীরা। সেই সকল প্রতিযোগীদের মাঝে নিজের সফলতা অর্জন করে ভারতের হয়ে একমাত্র স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নিয়ে আসে বৃষ্টি মুখার্জি।

ভারতের হয়ে একমাত্র স্বর্ণপদক জয়ী বৃষ্টি মুখার্জি বর্ধমানের মেমারির বাসিন্দা (১৫ বছর)। বাবা দেবাশীষ মুখার্জী এবং মা অপরূপা মুখার্জি। বৃষ্টি মেমারি রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা খেলার প্রতি তার একান্ত ঝোঁক তাকে বারবার দেশ-বিদেশে নানান প্রতিযোগিতায় পদক এনে দিয়েছে। দাবার প্রতি ঝোঁক দেখে বাবা দেবাশিস বাবু পাঁচ বছর বয়স থেকেই তাকে কলকাতার মিন্টু পার্কের এলাইন প্রেসক্লাবে দাবা শেখার জন্য ভর্তি করে দেন। অনলাইন এবং অফলাইন বিভিন্ন পদ্ধতিতে সে দাবা খেলার শিখে এখন পোর খাওয়া দাবাড়ু। এবছর শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত অনূর্ধ্ব ১৬ যুবা দাবা প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করে ভারতের একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নিয়ে আসে তার ইভেন্টে। তার হাত ধরেই ভারত এই প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অর্জন করে।

তবে এই পুরস্কার তার কাছে প্রথম নয়, দেশ-বিদেশে আয়োজিত নানান প্রতিযোগিতা থেকে তিনি ছিনিয়ে নিয়ে এসেছেন একের পর এক পুরস্কার। তার বয়স যখন সাত বছর, তখনই তিনি পুরস্কারের স্বাদ বুঝতে পেরেছিলেন, সেটাই ছিল তার জীবনের প্রথম দাবা প্রতিযোগিতায় পদক।

বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন দাবা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের দরুন তার জন্য রয়েছে আলাদা করে কোচ। শ্রীলঙ্কায় এই প্রতিযোগিতায় তাঁর কোচ ছিলেন শুভ্রজিৎ সাহা।

বৃষ্টি জানিয়েছে, “তার দাবা খেলার প্রতি এত ঝোঁকের পিছনে এবং বারবার পদক জয়ের পিছনে রয়েছে বাবার অনুপ্রেরণা ও মায়ের একান্ত পরিশ্রম। সাথে সাথে কোচদের সহযোগিতা।”

বিদেশে আয়োজিত এমন দাবা প্রতিযোগিতায় শয়ে শয়ে দাবাড়ুদের মাঝে এ বাংলার বর্ধমানের মেমারির বৃষ্টির নিজের ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয়, তাও আবার এবছরের প্রতিযোগিতায় ভারতের একমাত্র স্বর্ণপদক জয়ী, যে জেলা, বাংলা তথা দেশের গর্ব, সে কথা বলা অনস্বীকার্য।

বছরের নতুন দিনে ভক্তদের ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হয় তারাপীঠে

নিজস্ব প্রতিবেদন : বাংলা হোক বা ইংরেজি, বর্ষবরণকে ঘিরে তারাপীঠে ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আলাদা উৎসাহ-উদ্দীপনা। দূরদূরান্ত থেকে অজস্র ভক্তের সমাগম হয় তারাপীঠে এই বিশেষ দিন গুলিতে। সারাবছর সুখে শান্তিতে কাটার প্রার্থনা এবং হালখাতার পুজো করে ব্যবসায় উন্নতির লক্ষ্যে ভক্তেরা বাংলা নববর্ষের দিন ভিড় জমান তারাপীঠে। এই দিনে তারাপীঠে এতটাই ভিড় হয় যে, রীতিমত ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হয় মন্দির কমিটি এবং প্রশাসনকে।

চলতি বছরে নববর্ষ দেশের সাধারণ নির্বাচনের সময় হওয়াই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম কিছুটা হলেও কম, তা হলেও বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী থেকে অন্যান্য ভক্তদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যবসায়ীরা হালখাতার জন্য নতুন খাতা মায়ের চরণে স্পর্শ করে পুজো দিতে ভিড় জমান।

আবার সকাল থেকেই অমাবস্যা তিথি। তাই রবিবার থেকেই তারাপীঠে পর্যটকদের আসা শুরু হয়ে গিয়েছে। অমাবস্যা তিথিতে মায়ের কাছে পুজো অর্পণ করলে মোক্ষলাভ হয় বলে ভক্তদের বিশ্বাস। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সোমবার ভোরে মায়ের স্নানের পর রাজবেশে সাজিয়ে পুজো ও মঙ্গলারতি হয়। সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকেই সকল ভক্তদের জন্য গর্ভগৃহ খুলে দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় বিশেষ সন্ধ্যারতি।”

চিনে নিন হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় : আগেই সতর্ক হোন

নিজস্ব প্রতিবেদন : মাত্র ২ দিনেই তাপমাত্রার মারাত্মক আকার ধারণ করেছে দক্ষিণবঙ্গে। গতকাল থেকেই পারো ছুঁয়েছে ৪০ কাছাকাছি। আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বৈশাখ মাসের শুরুতেই তাপমাত্রার এমন ঊর্ধ্ব গগনে রাজ্যবাসীর হাঁসফাঁস অবস্থা। শুধু হাঁসফাঁস অবস্থাই নয়, সাথে সাথে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। এই গরমে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই জেনে রাখুন হিট স্ট্রোকের লক্ষণ গুলি। হিট স্ট্রোকের লক্ষণ গুলি আগে থেকে জানা থাকলে জীবনের ঝুঁকি অনেকটাই কমতে পারে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ কি কি?

  1. এত গরমেও যদি শরীরের ঘাম বন্ধ হয়ে যায় তাহলে জানবেন এ ঘটনা অস্বাভাবিক। শরীরে ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া হিট স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ।
  2. শরীরের ঘাম বন্ধ হয়ে ত্বক শুষ্ক এবং লালচে হয়ে যাওয়াও হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।
  3. রক্তচাপ অস্বাভাবিক কমে যাওয়া হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।
  4. হিট স্ট্রোকের আগে শরীরের তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়। যার ফলশ্রুতি হিসেবে প্রস্রাবের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।
  5. নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত কমে যাওয়া এবং দ্রুত হয়ে যাওয়া হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।
  6. মাথা ঝিমঝিম, শরীরে খিচুনি হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।
  7. প্রচন্ড রোদে গরমে চলা ফেরার পর বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।
  8. হঠাৎ করে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হওয়া হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে কী কী করণীয়?

  1. এই গরমে সব সময় হালকা রং এবং হালকা ধরনের জামা কাপড় পড়ুন। আঁটোসাঁটো পোশাক পরবেন না। যাতে করে সহজেই শরীরের মধ্যে হাওয়া চলাচল করতে পারে।
  2. যদি দেখেন কোন ব্যক্তি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত তাহলে সেই ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়া অথবা ঠাণ্ডা পরিবেশে নিয়ে যান।
  3. হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে জলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ঠান্ডা কাপড় জড়িয়ে ফ্যানের বাতাসও দিতে পারে।
  4. যে সমস্ত ব্যক্তিরা সারাদিন রোদে ঘোরাঘুরি করে কাজ করেন তারা একটানা পরিশ্রম না পড়ে বিরতি নিয়ে নিয়ে কাজ করা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
  5. কারোর হিট স্ট্রোক হয়েছে এমন বুঝতে পারলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন অথবা চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান।

নেতা মন্ত্রীদের ভিড়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রামনবমী : অস্ত্র ছাড়াই শোভাযাত্রায় বাঙালিরা

নিজস্ব প্রতিবেদন : দেশজুড়ে চলছে গণতন্ত্রের উৎসব লোকসভা নির্বাচন। আর তার মাঝেই রাম নবমী আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে এবার। প্রশাসনের কড়া নির্দেশ অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা যাবে না রাম নবমীর। উপেক্ষা করার ছবিও কোথাও ধরা পড়েনি, তবে রীতি মেনে রামনবমীর ঐতিহ্য অস্ত্র পুজো করা হয় বিভিন্ন জায়গায়। অস্ত্র নিয়ে না হলেও আরও জমজমাট এবারের রামনবমী।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মন্ত্রীদের ভোটারদের ভোট নিজেদের পকেটে টানতে রামনবমীর মিছিলে ভিড় করতে দেখা যায়। সে বিজেপি হোক অথবা তৃণমূল পিছিয়ে নেই কেউ। বীরভূমের রামপুরহাটে রামনবমীর মিছিলে হাঁটতে দেখা গেল রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে, অন্যদিকে দুবরাজপুরে মিছিলে বিজেপি জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়, কড়িধ্যায় রামনবমীর মিছিলে নাচতে দেখা গেল জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মন্ডলকে। বোলপুরে গতকালই দেখা মিলেছিল বীরভূম জেলা বিজেপি সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষকে রামনবমীর র‍্যালির অগ্রভাগে। পুজোয় মাতলেন বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল।

এবার রামনবমী হলো একেবারে অস্ত্র ছাড়াই। শোভাযাত্রায় পায়ে পা মেলাতে দেখা গেল ঘরের মেয়েদের থেকে বয়স্কদেরও। হাজার হাজার মানুষের সমাগম ছিল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ। এই আকর্ষণকে আরো বাড়িয়েছে নেতা-মন্ত্রীদের রামনবমী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ। প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত।

রাম নবমী শোভাযাত্রা নিয়ে অবশ্য বিগত কয়েকদিনে রাজনৈতিক মহলে জলঘোলা হতে বাকি কিছু ছিল না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যখন সাফ জানিয়ে দিলেন, এবারও রামনবমীতে অস্ত্র নিয়ে মিছিল হবে।

ঠিক তখনই শিলিগুড়ির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ রাম নবমীর দিন সবাইকে শুভেচ্ছা। ধর্ম মানে দানবিকতা নয়, মানবিকতা। নতুন করে এরা তৈরি করেছে। এই সংস্কৃতি আমদানি করা হয়েছে, এটা আমাদের নয়। ধর্মকে নিয়ে কেন রাজনীতি করছেন, তার কৈফিয়ত দিতে হবে।”

কম যায়নি বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও। তিনি জানিয়েছিলেন, “হিন্দু পরিষদ যত বড় র‍্যালি করবে, তার থেকেও বড় র‍্যালি হবে তৃণমূলের।”

অনুব্রত মণ্ডলের এই বক্তব্যকে আবার ছেড়ে কথা বলেনি বীরভূম জেলার বিজেপি সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, “করুন না, আমরা তো চাই। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ভয় পেয়ে যান তাহলে ভয় পাবেন না অনুব্রত।” এরপরই তিনি হুঙ্কারের সাথে বলেন, “আপনি রামনবমী করুন, আমাদেরকে অনুসরন করুন, আমাদের পিছন পিছন হাঁটুন। উনাকে আমাদের পিছন পিছন হাঁটতে হবে, আমাদেরকে অনুসরণ করতে হবে।”

রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রাম নবমী। ভোটের বাজারে ভোট টানতে তাই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নেতা, মন্ত্রী এখন সকলেই রাম ময়দানে।

ঐতিহ্য আর বিশেষত্বের আর এক নাম ‘জল কালি’ : নামেই রয়েছে রহস্য

লাল্টু : ‘জল কালি’, নামেই রহস্য। কারণ এই কালি মা ১১ দিন বাদে বছরের অন্যান্য দিন গুলি জলের নিচেই অবস্থান করেন। পুজোর আগে ভক্তরা জল থেকে বিশেষ বিশেষ প্রথা অবলম্বন করে তুলে নিয়ে আসেন এবং ১১ দিন ধরে পূজা-অর্চনার পর আবার সারাবছর জলের নিচে অবস্থানের জন্য মাকে পাঠিয়ে দেন। এমন কালী পূজার রীতি রয়েছে বীরভূমের দুবরাজপুর থানার অন্তর্গত পাওয়ার হাউসের কাছে। মা কালীর পূজো এবং অবস্থানের বিশেষত্বে তিনি প্রচলিত নাম পেয়েছেন ‘জল কালি’।

পুজোকে উপলক্ষ করে এই ১১ দিন ব্যাপক ধুমধাম লক্ষ্য করা যায় মন্দির চত্বরে। সমাগম ঘটে হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতির। পুজোকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ছোট মেলায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে অংশগ্রহণ পড়তে লক্ষ্য করা যায়। ১১ দিন ধরে চলা এই পুজোয় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম চোখে পড়ার মতো। যদিও শেষের একদিন মন্দির চত্বরে ঢুকে মায়ের দর্শন করা সাধারণ ভক্তদের বারণ। কিন্তু তার আগে বাকি দিনগুলি যে কেউ এসে দর্শন করতে পারেন।

স্থানীয় একটি কালী পুকুর নামে পুকুরে সারা বছর মায়ের অবস্থান করার পর চৈত্র মাসের ২১ তারিখে মহা ধুমধামে মাকে পুকুর তোলা হয়। পুকুর থেকে তোলার ক্ষেত্রেও বিশেষ রীতি অবলম্বন করা হয় ভক্তদের মধ্যে। সেই দিন ভক্তরা উপোস করে জলে নামেন মাকে খোঁজার জন্য, তন্ন তন্ন করে চলে খোঁজাখুঁজি। তারপর খোঁজ মিললেই মাকে তোলা হয় পুকুরের পাড়ে। পুকুরের জল থেকে মায়ের মূর্তি তোলার সময় চলে হোম যজ্ঞ। এক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখযোগ্য মায়ের মূর্তি শিলামূর্তি। তারপর পুকুরের পাড়েই মাকে দুধ এবং চিনি দিয়ে স্নান করানো হয়। স্নানের কাজ সম্পন্ন হলে বিশেষ গাছের শিকড় দিয়ে দোলা করে নিয়ে আসা হয় মূল মন্দিরে। শুরু হয় ১১ দিনের টানা পুজো।

চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত মূল মন্দির চত্বরেই চলতে থাকে পূজা-অর্চনা। আশেপাশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন মন্দির চত্বরে। স্বর্ণালংকার দিয়ে সুসজ্জিত মায়ের দর্শন পেতে ভক্তদের মধ্যে আবেগ এবং উৎসাহ চোখে পড়ার মত। চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত পুজো হওয়ার পর আবার পহেলা বৈশাখ মাকে নির্দিষ্ট ওই কালী পুকুরে বিসর্জন দিয়ে আসা হয় সারাবছর অবস্থানের জন্য।

দুবরাজপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পীযুষ পান্ডে জানান, “দুবরাজপুরের ৮ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত এই কালি পুজোয় দুবরাজপুর ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্নপ্রান্ত থেকে অজস্র ভক্তের সমাগম ঘটে। হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতিকে কেন্দ্র করে চলে এই মেলা। জীর্ণ মন্দির বর্তমানে সংস্কার হয়েছে।”

প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান মির্জা শওকত আলী বলেন, “কয়েকশ বছরের পুরাতন এই পূজোর বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। পাশে রয়েছে ফকির বাবার মাজার। যা সব সময় সম্প্রীতির বার্তা বহন করে আসছে।”

শতাব্দী প্রাচীন এই পূজো এবং মানুষের মধ্যে অসীম বিশ্বাসের বলে দিনের পর মন্দির চত্ত্বরে জনসমাগম বেড়েই চলেছে। শত শত বছর ধরে ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে চলে আসা এই পূজো বীরভূমের আলাদা ঐতিহ্য।

খগেশ্বর নাথ শিব মন্দির, রইলো লুকিয়ে থাকা অজানা ইতিহাস

লাল্টু : মন্দিরের দেওয়াল লিখন হতে অনুমান করা হয় ১৫৪৪ শকাব্দে এই মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমান শকাব্দ ১৯৪০ মন্দিরটির বয়স ৩৯৬ বছর। বাংলা সন ১০২৯ এবং ইংরেজি সন ১৬২২। মন্দিরটি বালিজুড়ি ও মঙ্গলপুরের মধ্যস্থলে অবস্থিত।

অনাদিনাথ বাবা খগেশ্বর নাথের আবির্ভাব কথিত ও জনশ্রুত, বীরভূম জেলার খয়রাশোল থানার সাগরভাঙ্গা গ্রামের বিশ্বনাথ হাজারির পরিবারের কোন একজন ফুলবেড়ে গ্রামের রায় বাড়িতে গরুর গোয়ালে কাজ করতেন এবং ফুলবেরেতে থাকতেন। তিনি একদিন দেখতে পান একটি গাভী গভীর জঙ্গলের মধ্যে এক জায়গায় দুধ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। সেকথা খগাদিত্য রাজার কর্ণ গোচর হওয়াতে অনেক খোঁড়া খুঁড়ির পর অনাদিনাথের সন্ধান পান। তারপর বিশাল মন্দির স্থাপিত করেন রাজা খগাদিত্য। তার নামানুসারে খগেশ্বর মন্দির। বক্রেশ্বর মন্দিরের আদলে নির্মীত, ৮৩ ফুট উচ্চ।

খগাদিত্য রাজা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই শিব মন্দির এখনও অক্ষত। পরে আরও কিছু মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় চৌধুরী, চক্রবর্তী, পালদের। এখানে মূল মন্দির সহ ১২ টি মন্দির ও ৩৬ টি শিব লিঙ্গ আছে। তার মধ্যে খুবই সৌম্য স্বভাবের বটুক ভৈরব এবং খুবই রুদ্র স্বভাবের কাল ভৈরব একই জায়গায় অবস্থান করছেন। আর আছে খুবই জাগ্রত বাবা গোঁসাই মন্দির।

এখানে যে কালাপাহারের আবির্ভাব হয়েছিল তা ভগ্ন মূর্তি থেকে অনুমান করা যায়। পার্শ্ববর্তী পুকুর সংস্কারের সময় পাওয়া যায় এক কৃষ্ণমূর্তি। সেই মূর্তির বাম হাত কাটা। এর থেকে অনুমান এখানে কালাপাহাড়ের আবির্ভাব হয়েছিল।

খগেশ্বরনাথ মন্দিরের অনতি দূরে মহাড়ি গ্রাম সংলগ্ন জায়গায় একটি শিবলিঙ্গ আছে। কথিত আছে ওই শিবলিঙ্গ রানীর অন্দর মহলের শিবলিঙ্গ। বাণী মা পূজা করতেন। কথিত আছে রাজা খগাদিত্য অপুত্রক ছিলেন। প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো মন্দির হলেও শ্রী শ্রী মৌনী বাবা কর্তৃক উদয়াস্ত মহাযজ্ঞ প্রবর্তিত হয়েছে ১৩৫৯ সন থেকে। মৌনী বাবা মুর্শিদাবাদের ভাটপাড়া গ্রাম থেকে এসেছিলেন। ১২ বছর মৌনব্রত ছিলেন। তার জন্যই উনার নাম মৌনিবাবা। তিনি উদয়াস্ত মহাযজ্ঞ আরম্ভ করেন তা আজ ৬৬ বৎসর ধরে চলছে। দীর্ঘ ২০ বৎসর তিনি বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী গ্রামের সাহায্যে ভগ্নপ্রায় নাটশালা, গর্ভগৃহ ও অন্যান্য মন্দিরের সংস্কার করেন। বর্তমানে তিনি প্রয়াত। মন্দিরের পাশে মৌনিবাবার মর্মর আবক্ষ মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। ভৈরবনাথ চক্রবর্তী ও বিশ্বনাথ ব্যানার্জির প্রচেষ্টায়।

মাঝে কয়েক বছর মহাযজ্ঞে একটু ভাটা পড়েছিল। পরে ভৈরবনাথ চক্রবর্তী ও বিশ্বনাথ ব্যানার্জির যৌথ উদ্যোগে তৎকালীন ভদ্র মহোদয়ের প্রচেষ্টায় পুনরায় চালু হয়। ৮ এর দশকে দুবরাজ আশ্রমের কর্নধার ‘স্বামী ভুপানন্দ মহারাজের অর্থ সাহায্যে যজ্ঞ স্থলের আচ্ছাদন, সত্যানন্দ পুকুর ঘাট সংস্কার করেন।

মহাযজ্ঞ উপলক্ষে দুইদিন ব্যাপী এক গ্রাম্য মেলা হয়। সন্ধ্যায় তেলের মারুলি দিয়ে নিলবাতি দিতে হাজির হন ঘরের গৃহবধূরা। এ এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নর নারায়ন সেবা সে এক দেখার মত। খগেশ্বরনাথ মন্দির হতে ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত বাবা কটাক্ষ ভৈরবনাথ মন্দির, মনোরম পরিবেশের মধ্যে। এই মন্দির বহু সত্য ঘটনার সাক্ষী। এখানে মানুষ ধর্না দিতেন। বহু দুরারোগ্য ব্যাধির এই ধর্ণার ফলে উপশম হত। এই ধর্না নিয়ে অজস্র কাহিনী আছে যা সবই সত্য ঘটনা বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের। মন্দিরের নিত্য পূজা ও ভোগের দায়িত্ব ঘোষাল পরিবার ও রায় পরিবারের। পুর্ণারথীদের দানের টাকায় চলে সারা বছরের নিত্য পূজা ও সেবা কার্য্য। বাবার এমন মাহাত্ম্য যে একদিনও পুণ্যার্থী না আসা হন না। সন্ধ্যায় বাবার শীতল হয়। যদিও বর্তমানে মন্দিরের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য গঠিত হয়েছে খগেশ্বর নাথ শিব মন্দির উন্নয়ন সমিতি।

ধর্মের টানেই প্রাচীন ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে বয়ে চলেছে বর্তমান প্রজন্ম। এত প্রাচীন এবং বহু মানুষের সমাগম ঘটলেও সেইরকম ভাবে সরকারি দৃষ্টি আকর্ষণ হয়নি। যদিও ‘west bengal heritage commission’ এর তীর্থস্থানের সীমা নির্ধারণ থাকলেও অদ্যবধি সেই তিমিরে রয়েছে। সরকারি দৃষ্টি আকর্ষণ তৎ সহ স্থানীয় বিধায়কের দৃষ্টি আকর্ষণ হলে তবেই পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে পরিগণিত হবে।

ভোটের আগেই মা’কে হারিয়ে শোকাহত অনুব্রত মণ্ডল

অমরনাথ দত্ত : লোকসভা ভোটের আগে ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা অনুব্রত মণ্ডলের। আর মাত্র কয়েকদিন বীরভূমের দুটি লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। ঠিক তার আগেই আজ মা’কে হারালেন তিনি। যদিও এই ঘটনার সাথে তার রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই।

শনিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অনুব্রত মণ্ডলের মা পুষ্পরানী মন্ডল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। গত ৭-৮ দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অবশেষে আজ সকালে তিনি ইহলোক ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বর্গীয় পুষ্পরানী মন্ডলের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। জাতির মধ্যে এক সন্তান অনুব্রত মণ্ডল। পুষ্পরানী মন্ডলের ইহলোক ত্যাগ করার সাথে সাথে সকলেই আজ মাতৃহারা।

অনুব্রত মণ্ডল ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের পর থেকে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে নিজের জায়গা করতে শুরু করেন। অনুব্রত জীবনের সমস্ত রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন মা পুষ্পরানি মন্ডল। এমনকি কেষ্টও প্রতিদিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে তার মায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে যে কোন কাজে বের হতেন। আর আজ সেই মা চলে যাওয়ায় চরম শোকাহত অনুব্রত।

সকালেই বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে একের পর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তার বাড়িতে এসে দেখা করে যান। ঘুম থেকে উঠেই ছুটে চলে আসেন মৎস্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা থেকে অন্যান্যরা।